বেজিং : প্রথমে গালওয়ান সংঘর্ষে তাদের সেনা মারা গিয়েছে বলে নাকিকান্না, এরপর সেই দাবির স্বপক্ষে ভিডিও প্রকাশ। চিন রয়েছে চিনেই। গোটা বিশ্বের সহমর্মিতা পাওয়ার জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিয়েও বিশেষ ফায়দা তুলতে পারল না চিন, এমনই মত বিশেষজ্ঞ মহলের। পূর্ব লাদাখে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শহিদ হয়েছিলেন ২০ জন ভারতীয় জওয়ান। তারপরেই ভারত চিন সম্পর্কের অবনতির শুরু। ধীরে ধীরে লাদাখের প্যাংগং লেকের দুই প্রান্ত থেকে সেনা সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দুই দেশ। তবে চিন যে সহজে পিছু হঠবার পাত্র নয়, তা এই ভিডিও প্রকাশেই প্রমাণিত।

শুক্রবার চিনের মিডিয়া উপদেষ্টা ও বিশেষজ্ঞ শেন সিওয়েই ট্যুইটারে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তাঁর দাবি, ভারতীয় সেনা নাকি চিনা সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছিল। তাই চিনা সেনা তাদের বাধা দিতে চেয়েছিল। ফলে সংঘর্ষ বাঁধে। ভিডিওটিতে একজন চিনা সেনা ও একজন ভারতীয় সেনাকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করতে দেখা গিয়েছে। তবে এই ভিডিও শনিবারের দুই দেশের বৈঠকে কোনও প্রভাব ফেলবে কীনা, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ এই প্রসঙ্গে চিনা বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, দুটি সম্পূর্ণ পৃথক ইস্যু।

এদিকে, চিন প্রথমবার স্বীকার করে নেয় যে, গালওয়ানে তাঁদের সেনার মৃত্যু হয়েছিল। গত বছরের জুনে ঘটা সেই রক্তাক্ত সংঘর্ষে তাঁদের চার সেনার মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে চিন। অন্যদিকে রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষে ভারতের ২০ সেনা শহিদ হন।

গ্লোবাল টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, চিনের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন কারাকোরাম পর্বতে অবস্থানরত পাঁচ চিনা সেনার আত্মবলিদানের কথা স্মরণ করেছে। চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম পিপলস ডেইলি চায়নায় বলা হয়েছে, যে চারজন সেনা প্রাণ হারিয়েছিল তাঁদের মরোনোত্তর পুরষ্কার দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে চারজনের মৃত্যু হয়েছিল গালওয়ানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ও অপরজনের মৃত্যু হয়েছে উদ্ধারকাজ চলাকালীন নদীর বন্যার কারণে।

যদিও মনে করা হচ্ছে সংঘর্ষে মৃত সেনার সংখ্যা কম করে দেখাচ্ছে লাল চিন। গালওয়ানের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কমপক্ষে ৪৫জন চিনা সেনার মৃত্যু হয়। রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাস তেমনই রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল। রিপোর্টে বলা হয়, ২০২০ সালে ১৫ই জুন যে সংঘর্ষের পরে ২০ জন ভারতীয় সেনা মারা গিয়েছিল, সেই সংঘর্ষেই খতম করা হয়েছিল ৪৫ জন চিনা সেনাকে। এতদিন চিনের দাবি ছিল তাদের ক্ষয়ক্ষতি সেভাবে হয়নি। তবে তারা ভারতের ২০ জন সেনাকে শহিদ করে বড় ক্ষতি করতে পেরেছে। তাদের দাবি যে ভুয়ো ছিল, তা প্রমাণ হয়ে গেল এদিন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.