স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের অনশন শুরু হয়েছে শুক্রবার রাত থেকে৷ তার প্রায় ৬০ ঘন্টা পর এই প্রথম অনশনকারীদের মুখোমুখি হলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাশ৷ তিনি ব্যর্থ হয়েছেন৷ সোমবার বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের সামনা সামনি এসে এমনই বললেন উপাচার্য৷

ঘেরাও মুক্ত হওয়ার পরের দিন প্রথমে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি ও তারপর আচার্য রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠির কাছে গিয়েছিলেন তিনি৷ সূত্র মারফত জানা গিয়েছিল, তাঁদের সঙ্গে বৈঠকের সময় পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি৷ এদিন পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁর কথায় পদত্যাগের ইঙ্গিত পাওয়া যায়৷ বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের তিনি বলেন, ‘‘তোমাদের আমায় আর বেশিদিন দেখতে হবে না৷ আমি যে ক’দিন ছিলাম আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি৷ কিন্তু, আমি ব্যর্থ হয়েছি৷ তোমরা আরও ভালো উপাচার্য পাবে৷’’

এ ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানের আসনে বসেই তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে দাবি করেন উপাচার্য৷ তাঁর বক্তব্য, কর্মসমিতির বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ আর উপাচার্যের আসনে বসে তিনি সেই সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য৷ তিনি অন্য চেয়ারে থাকলে হয়তো অন্য কোনও মতামত দিতে পারতেন৷ যদিও, উপাচার্যের এই দাবি মানতে নারাজ আন্দোলনকারীরা৷ তাঁদের বক্তব্য, তিনি যা করার তা ওই আসনে বসেই করতে পারেন৷ ওনাকে কে আটকাচ্ছে?

আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের সমর্থনকারী অধ্যাপকরা বার বার একই কথা বলছেন৷ অ্যাকাডেমিক অটোনমিতে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে৷ কিন্তু, এদিন উপাচার্যের মুখে অন্য সুর শোনা গিয়েছে৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি কখনই চায় না অটোনমিতে হস্তক্ষেপ করতে৷’’ তাহলে ভরতি প্রক্রিয়া থেকে অন্তর্বর্তী অধ্যাপকদের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কী অ্যাকাডেমিক অটোনমিতে হস্তক্ষেপ নয়? পাল্টা প্রশ্ন তুলছেন প্রতিবাদী অধ্যাপকরা৷

প্রবেশিকা পরীক্ষা বিষয়টিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে আচার্যের পরামর্শের অপেক্ষায় রয়েছে তা এদিন উল্লেখ করেন উপাচার্য৷ তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যপালের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে৷ তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত জানালেই আমরা পদক্ষেপ নেব৷’’ তাঁর আগে রেজিস্ট্রার চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যও প্রায় একই কথা বলেন আন্দোলনকারীদের৷ তিনি জানিয়েছেন, কর্মসমিতির বৈঠক ডাকা হচ্ছে৷ তবে, সেই বৈঠক কবে ও কখন ডাকা হবে তা আচার্যের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করছে৷

প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে জটিলতা কাটানোর কোনও আশ্বাস না দিতে পারলেও, অনশনকারী পড়ুয়াদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন উপাচার্য৷ তাঁদের কোনও সমস্যা বা প্রয়োজন হলে তাঁকে জানাতে বলেছেন তিনি৷