স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ২০১৬ সালের ঘটনা। ১৪ মার্চ, একজন প্রৌঢ়া এসে চেতলা থানায় অভিযোগ জানান, তাঁর নাবালিকা নাতনিকে দীর্ঘদিন ধরে ক্রমাগত শারীরিক নিগ্রহ করেছে তাঁদেরই এক আত্মীয়। নাম মৃন্ময় হালদার। নিগৃহীতা মেয়েটির বয়স মাত্র ১২ বছর। ভয়ে টানা চার মাস ধরে মুখ বুজে অত্যাচার সহ্য করেছে মেয়েটি। তারপর একদিন জানাতে বাধ্য হয় দিদিমাকে। যিনি সব শুনে অবিলম্বে অভিযোগ করেন থানায়।

সেই দিনই চেতলা লকগেট অঞ্চলের বাড়ি থেকে মৃণ্ময়কে গ্রেফতার করে চেতলা থানার বিশেষ টিম। এবং মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে কলকাতা গোয়েন্দা দফতরের স্পেশাল জুভেনাইল পুলিশ ইউনিট।

পড়ুন: ভোটের ‘ভয়’ ভুলে পাহাড়ের গ্রামে ভিড় জমাচ্ছে বাঙালি

জানা গিয়েছে, চেতলা লকগেটের কাছে বস্তিতে মায়ের সঙ্গে থাকত কিশোরী মেয়েটি। বাবাকে হারিয়েছে শৈশবেই। মা পরিচারিকার কাজে ব্যস্ত থাকেন সারাদিন। মেয়েটি থাকত দিদিমার তত্ত্বাবধানেই। কিন্তু ঘরে অনেকটা সময় একাই থাকতে হত তাকে৷ আর এই এই অবস্থারই সুযোগ নিয়েছিল সম্পর্কে আত্মীয় মৃণ্ময় হালদার।

মেয়েটির মেডিক্যাল রিপোর্টেও প্রমাণ মেলে শারীরিক নিগ্রহের। মৃণ্ময়ের বিরুদ্ধে পকসো আইনে (Protection of Children from Sexual Offences Act) মামলা রুজু হয়। উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ সহ চার্জশিট জমা দেওয়া হয়৷

পড়ুন:  দেহব্যবসার পর্দাফাঁস: অশ্লীল অবস্থায় হাতেনাতে ধরা পড়ল যুবক-যুবতীরা

দীর্ঘ শুনানির পর সেই কেসেরই রায় বেরিয়েছে। মৃণ্ময়ের ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডর পাশাপাশি ৩০ হাজার টাকা জরিমানাও হয়। জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ডের মেয়াদ বাড়বে আরও ১৮ মাস। জরিমানার ৫০ শতাংশ টাকাই ক্ষতিপূরণ বাবদ যাবে নিগৃহীতা মেয়েটির কাছে। এছাড়াও, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মেয়েটিকে অতিরিক্ত ৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেন বিচারক। অপরাধীর শাস্তি সুনিশ্চিত করেছেন এই কেসের তদন্তকারী অফিসার স্পেশাল জুভেনাইল পুলিশ ইউনিটের সাব-ইনস্পেকটর মেঘনা কর।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ