ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সোমবার নজরুল মঞ্চে তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ সেখানে বিধায়ক, সাংসদ, জেলা সভাপতিরা ছাড়াও দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা হাজির হয়েছিলেন৷ এদিন এই সভামঞ্চেই একেবারে প্রথম সারিতে দেখা মিলল ‘দাদার কীর্তির’ তাপস পালের৷ রোজভ্যালিকাণ্ডে যিনি দীর্ঘ ১৩ মাস ওড়িশার ভুবনেশ্বরে বন্দী হয়ে কাটিয়েছেন৷

রোজভ্যালিকাণ্ডে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা তাপস পালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যেদিন থেকে ডেকে পাঠায়, তারপর থেকেই তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁর সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে থাকে৷ এরপর জেল হয়ে যায় কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদের৷ দল সেমসয় তেমনভাবে আর যোগাযোগ রাখেনি তাপসের সঙ্গে৷ এরপর ১৩ মাস জেলে বন্দী থাকার পর ২০১৮ ফেব্রুয়ারিতে জামিনে মুক্তি পান তিনি৷ আর তারপরও রাজনীতিতে তাঁকে সেভাবে দেখা যায়নি৷ তারপর দলের নানা সভা, মিটিং হয়েছে৷ কিন্তু দেখা মেলেনি তাপসের৷

এমনকি দলের সঙ্গে দূরত্ব এতটাই বেড়ে ছিল সাংসদের যে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে কালীপুজোর অনুষ্ঠানে গিয়েও ভিআইপি গেট দিয়ে ঢুকতে পারেননি তিনি৷ পরে তাঁর স্ত্রী নন্দিনী দীর্ঘ ফোনাফুনি করে শেষমেশ বাড়িতে প্রবেশ করেন তিনি৷ মিনিট দশেক থেকেই বেড়িয়ে আসতে দেখা যায় তাঁকে৷ তারপর ব্রিগেডের মঞ্চেও দেখা মেলেনি তাঁর৷ এদিন নজরুল মঞ্চে কোর কমিটির সভায় প্রথম আগমন তাঁর৷

এদিকে নদিয়া জেলায় কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে কৃষ্ণনগর থেকে এবার আর টিকিট পাচ্ছেন না তাপসবাবু৷ তাঁর জায়গায় করিমপুরের বিধায়ক মহুয়া মৈত্রকে টিকিট দেওয়া হতে পারে৷ কারণ প্রথমত তাপসের চিটফান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে জেল খাটার বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি দলনেত্রী৷

ফাইল ছবি

এদিকে জেল থেকে বেড়িয়েই প্রথমে পুরোদস্তুর শুটিং-এ মন দিয়েছিলেন এই সাংসদ৷ তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘‘রাজনীতি থেকে আমি অনেকটাই দূরে৷ আমি একজন সাধারণ মানুষ৷ আমি অভিনেতা৷’’ সেইসময় সত্যিই তিনি রাজনীতি থেকে শতযোজন দূরেই ছিলেন৷ কিন্তু এদিন হঠাৎ মঞ্চে তাঁর আগমন অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে৷ দলের অন্দরে অনেকেরই মনে প্রশ্ন জেগেছে, তবে কি সব কিছু সেটিং হয়ে গিয়েছে? আবার কি কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্র থেকেই তিনি টিকিট পাচ্ছেন?

ফাইল ছবি

যদিও লোকসভায় টিকিট পাওয়া প্রসঙ্গে দলনেত্রী এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিন, ‘‘প্রার্থী হবে একজন৷ সকলে মিলে লড়তে হবে৷ আর কিছু জায়গায় সমস্যা রয়েছে সেখানে আমরা বসে কথা বলে নেব৷’’