গুয়াহাটি: ২৯ বছর পর অসম থেকে তুলে নেওয়া হতে পারে আফস্পা আইন৷ হতে পারে কারণ, সেনার পক্ষে সরকারি ভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি৷ তবে সেই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে সেনা সূত্রে খবর৷

ইকোনমিক টাইমসে এই নিয়ে একটি প্রতিবেদন লেখা হয়েছে৷ সেখানে দাবি করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার অসম থেকে জওয়ানদের ফিরিয়ে আনার জন্য সেনার মতামত জানতে চেয়েছে৷ এখানে বলা রাখা ভালো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ২০১৮ সালে একটি পরিসংখ্যান সামনে আনে৷ তাতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ আগের থেকে অনেক ভালো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়৷

৯০ এর দশক৷ অসমে তখন উলফাদের আস্ফালন৷ সেই সময় থেকে অসমের পরিচয় উলফা উপদ্রুত রাজ্য৷ উলফাদের মোকাবিলায় রাজ্যে জারি করা হয় আফস্পা আইন৷ যা সেনার হাতে বাড়তি কিছু ক্ষমতা তুলে দেয়৷ এই আফস্পা আইন নিয়েও অনেক বিরোধ হয়েছে৷ তবে রাজনীতিকদের একাংশের মতে, অসমের পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে এগোচ্ছিল৷ আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে শুরু করে৷ ওই অস্থিরময় পরিবেশ থেকে অসমকে টেনে তুলতে আফস্পা জারি জরুরি ছিল৷

তবে অসম এখন অনেকটাই শান্ত৷ ধীরে ধীরে মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে৷ সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে এসেছে রাজ্যে৷ পরিসংখ্যানই বলছে, তিন দশকের মধ্যে ২০১৮ সালে সবথেকে কম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে অসমে৷

ফলস্বরূপ সেনাও অসমের নানা জেলা থেকে জওয়ানদের সরাতে শুরু করেছে৷ তাদের জায়গা নিয়েছে আধাসামরিক বাহিনী ও পুলিশ৷ ২০১৮ সালেও আফস্পা তুলে দেওয়া নিয়ে ভাবনা চিন্তা করে কেন্দ্রীয় সরকার৷ তবে এই আইন থাকবে না বাড়ানো হবে সেই সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়৷ যদিও নাগরিকপঞ্জীর চূড়ান্ত তালিকার প্রকাশের কারণ দেখিয়ে রাজ্যের বিজেপি সরকার দু’বার আফস্পা আইনের মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়৷ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নাগরিকপঞ্জীর কাজ ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ হবে৷ তারপরেই আফস্পা আইন প্রত্যাহারের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে৷