বিশেষ প্রতিবেদন: কর্ণেল বিজয় সিং বালহারা, ২০০৯ সালে তিনিই ছিলেন ২৬ মেকানাইসড ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটেলিয়নের মেজর৷ ওই বছরের ৪ মার্চ মনিপুরের ইম্ফলে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে এনকাউন্টার হয়৷ অভিযোগ, সেদিন বালহারা সহ সাত জনের নেতৃত্বে চলা এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় ১২ বছরের শিশু মহম্মদ আজম খানের৷ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের করা হয়৷ ৯ বছরের ব্যবধান৷ ২০১৮-র ১৩ অগাস্ট মনিপুরের ১০৭ সেনা সুপ্রিম কোর্টে এই ধরণের এফআইএর-এর বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করে৷ জানা যাচ্ছে, এই ১০৭ জনই বিজয় সিং বালহারার ইউনিটের৷

মামলাকারী সেনাদের অভিযোগ, ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের’দাপটে AFSPA-র আইন মেনে কাজ করতে পারছে না সেনা৷ বার বার সেনাদের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক অভিযোগ উঠছে৷ মনিপুর,কাশ্মীরের মত AFSPA আওতাভুক্ত রাজ্যে জঙ্গি দমনে এনকাউন্টার নতুন ঘটনা নয়, অপ্রীতিকর ঘটনায় সেনার কোনও দায় নেই৷ তাই সেনার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগে মামলা দায়ের বন্ধ হোক৷ কাশ্মীর ও মণিপুর সহ মোট ৭৩৯ জন সেনা সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে৷ এর মধ্যেই মনিপুরের ১০৭ সেনার তৎকালীন মেজর ছিলেন বিজয় সিং বালহারা৷ পদোন্নতি হয়ে যিনি এখন কর্ণেল৷

সুপ্রিম কোর্টে সেনাদের দায়ের করা মামলায় আর একটা বিষয়ও প্রকাশ্যে আসে৷ আর তা হল, হাই কমান্ডারের নির্দেশ মেনেই এনকাউন্টার পরিচালিত হয়, সেখানে কর্তব্যরত সেনার কোনও দায় থাকে না৷ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সেনা হেডকোয়ার্টার জানাচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা মামলা সেনাদের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়৷ যারা এই জনস্বার্থমামলায় সই করেছেন, তাঁরা নিজেদের দায়িত্বেই মামলা লড়বেন, এক্ষেত্রে হাই কমান্ডের কোনও দায় নেই৷

বালহারার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পর্যেবক্ষন করছে সুপ্রিম কোর্ট৷ ১৪ জুলাই বিচারপতি সন্তোষ হেগড়ে কমিশনকে বালহারার বিরুদ্ধে ওঠা মামলার তদন্তভার দিয়েছে শীর্ষ আদালত৷ বালহারা বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলছে,সেখানে প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে বিজয় বালহারা ইউনিটের সেনারা সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের দাবি তুলে মামলা দায়ের করতে পারে? এক্ষেত্রে মামলাকারী কর্ণেল অমিত কুমারের আইনজীবী ঐশ্বর্য ভাটি জানাচ্ছেন, সুপ্রিম কোর্টে ৭০০-র উপর সেনা মামলা দায়ের করেছেন, সেখানে বালহারার ইউনিট নিয়ে মাতামাতি না করাই ভালো৷

অবশ্য, কাঁটার মতই বিঁধে আছে মেজরের হাতে ১২ বছরের শিশুর মৃত্যুর ঘটনা৷ ৯ বছর কেটে গেছে ইতিমধ্যেই, অভিযুক্ত মেজরের পদোন্নতিও হয়েছে৷ বিচার কতটা এগিয়েছে? সুপ্রিম কোর্ট আপাতত পর্যবেক্ষণে৷