নয়াদিল্লি: দীর্ঘ আলোচনার পর ৩জন ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারকে মুক্তি দিল তালিবানরা৷ তবে এর বিনিময়ে নিজেদের ১১জন জঙ্গির মুক্তির বিষয়টি পাকা করে নিয়েছে তারা৷ তালিবান গোষ্ঠীর একাধিক শীর্ষ নেতার সূত্র ধরে এমনই রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে৷

এই ঘটনা ঘটেছে ৬ই অক্টোবর৷ তবে ঠিক কোথায় এই বন্দি বিনিময় ঘটেছে, তা গোপন রাখা হয়েছে সংবাদমাধ্যমের কাছে৷ উল্লেখযোগ্যভাবে, সেদিনই আফগানিস্তানের উপবিদেশমন্ত্রী ইদ্রিস জামান জানান, এই বন্দিমুক্তির ব্যাপারে কথা বলছে পাকিস্তান৷ ইসলামাবাদ ও তালিবান গোষ্ঠীর মধ্যে আলোচনা চলছে৷

আরও পড়ুন : রাফায়েল আনার আগে ফ্রান্সে ‘শস্ত্র পুজো’ করবেন রাজনাথ সিং

যেসব তালিবান বন্দিদের মুক্তি দিতে হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে নিমরোজ ও কুনার প্রদেশের তালিবান শীর্ষ নেতা মওলায়ি আবদুর রশিদ ও শেখ আবদুর রহিম৷ এছাড়াও তালিবানদের পক্ষ থেকে একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে সদ্য মুক্তি পাওয়া তালিবান নেতাদের নিয়ে আনন্দউৎসব পালন করা হচ্ছে৷

তবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এখনও এই মুক্তির বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি৷ ২০১৮ সালের মে মাসে আফগানিস্তানের উত্তর বাগলাম প্রদেশ থেকে পাওয়ার প্ল্যান্টে কাজ করা ৭জন ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারকে বন্দি করে অপহরণ করে তালিবানরা৷ এদের মধ্যে একজনকে মার্চ মাসে ছেড়ে দেওয়া হয়৷ বাকিদের মধ্যে ৩জন ৬ই অক্টোবর মুক্তি দেওয়া হল৷ তবে অপর ৩ বন্দি ইঞ্জিনিয়ারের কি ভবিষ্যত, তা জানা যায়নি৷

এদিকে, ভারতীয়েদর অপহরণের পর ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলে আফগান বিদেশমন্ত্রক৷ আফগান প্রশাসন আশ্বাস দেয়, অক্ষত অবস্থায় দেশে ফিরবেন ৭ ভারতীয়৷ তালিবানদের সঙ্গে কথা বলতে মধ্যস্থতাকারীদের সাহায্য নেবে আফগান প্রশাসন বলেও খবর মেলে৷ আফগান প্রশাসন সূত্রের খবর, যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাতেই ভারতীয়দের রাখা হয়েছে৷

আরও পড়ুন : ভারত সীমান্তের দিকে এগোচ্ছে হাজারেরও বেশি পাক বিক্ষোভকারী: ইসলামাবাদ

তালিবানদের সঙ্গে রফাসূত্র বার করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়৷ ভারতীয় ইঞ্জিনিয়রদের কোথায় রাখা হয়েছে, সেই নিয়ে সংশয় তৈরি হলেও, কয়েকটি বিষয়ের উপর নজর রাখে ভারতও৷ বিদেশমন্ত্রক জানায়, ৬ মে বাগলান থেকে অপহৃত হন ভারতীয়রা৷ তাই, বাগলানের চেশমা-এ-সের এলাকায় তাদের রাখার সম্ভাবনা রয়েছে৷

ভারতীয়দের অপহরণ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গেও কথা বলে ভারত৷ মস্কোয় মোদী-পুতিন বৈঠকেই অপহরণের কথা জানান হয়৷ ভারতীয়দের অপহরণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক দুনিয়াকে অবগত রাখতেই রাশিয়াকে বিষয়টি জানান হয়৷ অপহরণের পর থেকেই স্থানীয়দের মাধ্যমে তালিবানদের সঙ্গে কথা বলে আফগান প্রশাসন৷ ভারতীয় ইঞ্জিনিয়াদের আফগান সরকারের কর্মী মনে করেই অপহরণ করা হয়৷ স্থানীয়দের মারফত প্রশাসনকে এমনই জানায় তালিবানরা৷