কাবুল: এমনও ছবি দেখা যাবে নাকি? ছবিগুলো তোলার সময় এরকমই ভাবছিলেন মিরওয়াইজ আফগান৷ বড় রাস্তার উপরে তখন সশস্ত্র তালিবান ও আফগান সেনা একে অপরকে আলিঙ্গনে মত্ত৷ ফলে ছবিগুলো হয়ে গেল অমূল্য৷ ইদ উপলক্ষে এই মুহূর্ত দেখে চমকে যাচ্ছে দুনিয়া৷ ঘটনা কাবুলের দক্ষিণে থাকা লোগার প্রদেশ৷

আফগান সরকার ও তালিবানের মধ্যে সংঘর্ষ বিরতি চলছে৷ ইদ উপলক্ষে সংঘর্ষ থামানোর বার্তা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি৷ তাঁর বার্তার পরেই আফগান তালিবানরা পাল্টা বিবৃতি দিয়ে আপাতত অস্ত্র নামিয়ে রাখল৷ সেই রেশ ধরেই আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে জঙ্গি ও সেনা পরস্পর হাত মিলিয়ে, শুভেচ্ছা জানিয়ে ইদ পালন করছে৷

সংবাদ সংস্থা আল জাজিরা জানাচ্ছে, এটা নজির হয়েই থাকবে৷ গত ১৫ বছরের মধ্যে প্রকাশ্যে যেভাবে তালিবান ও আফগান সেনা একে অপরের সঙ্গে হেসে হেসে কথা বলছে সেটা দেখেই জনগণ চমকৃত৷ ফলে দেশজুড়ে ছড়িয়েছে শান্তি৷ আপাতত তিন দিনের জন্য হলেও শান্তিতে উৎসব পালন করছেন আফগানিরা৷ রাজধানী কাবুল প্রায়ই তালিবান হামলা ও বিস্ফোরণে রক্তাক্ত হয়৷ গত কয়েক দিনে সেরকম ঘটনা ঘটেনি৷ রয়টার্স জানাচ্ছে, দূরবর্তী বিভিন্ন প্রদেশ যেখানে কখনো নিকেশ করা হয় জঙ্গিদের আবার কখনো নাশকতায় রক্তাক্ত হয় সেনা ছাউনি সেই সব এলাকাতেও চলছে উৎসব৷

কুন্দুজের বাসিন্দা মহম্মদ আমির নিজের চোখকেই যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না৷ রয়টার্সকে তিনি জানিয়েছেন, আমি দেখলাম এক তালিবান ও এক পুলিশ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে সেলফি নিচ্ছে৷ এটা তো অবিশ্বাস্য ব্যাপার৷

আফগান সংবাদমাধ্যম TOLO জানাচ্ছে, কাবুলের সর্বত্রই চলছে উৎসব৷ নিরাপত্তারক্ষীরা আছেন৷ কিন্তু কোথায় যেন একটা হালকা আমেজ দেখা গিয়েছে৷ সবারই ধারণা, শনিবার ইদের দিন আর কোনও রক্তাক্ত মুহূর্ত দেখা যাবে না৷ শিশু সহ অনেকেই ভিড় করছেন বিভিন্ন পার্ক ও দোকানে৷ চলছে আনন্দের মাঝে খাওয়া দাওয়ার পর্ব৷

আফগান সরকারের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন সবাই৷ তালিবান জঙ্গি বনাম আফগান সরকারের সংঘর্ষ বারে বারে রক্তাক্ত পরিস্থিতি তৈরি করেছে৷ এ কারণে আফগানিস্তান মৃত্যুপুরী৷ আফগান-পাক সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে উত্তেজনা৷ জঙ্গি দমন অভিযানে মৃত্যু হয়েছে তেহরিক তালিবান পাকিস্তানের নেতা মোল্লা ফজলুল্লার৷ যদিও পাকিস্তানের মাটিতেই এই ঘটনা ঘটে৷ তার জেরে নতুন করে অশান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা দেখা দেয়৷ পরিস্থিতি নিয়ে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি কথা বলেছেন, পাকিস্তানের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী নাসির উল মুলক ও সেনা প্রধান জেনারেল জাভেদ বাজওয়ার সঙ্গে৷