পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলা

নয়াদিল্লি: পুলওয়ামায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় শহিদ হয়েছেন বহু জওয়ান। এখনও হাসপাতালে লড়াই করছেন অনেকে। অন্যদিকে, গোয়েন্দাদের তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক তথ্য। জানা গিয়েছে, আফগান যুদ্ধের অন্যতম মাথা আব্দুল রশিদ গাজীর হাত আছে এই হামলায়।

মনে করা হচ্ছে গত ডিসেম্বর থেকেই ছক শুরু হয়ে গিয়েছিল। এই আব্দুল রশিদ গাজী একজন আইইডি স্পেশালিস্ট বলেও জানা গিয়েছে।

সূত্রের খবর, এই হামলার পিছনে বেশ কিছু কারণ আছে। প্রথমত আগামী ৯ ফেব্র‌ুয়ারি ছিল সংসদ হামলার মূলচক্রী আফজল গুরুর মৃত্যুবার্ষিকী। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, একটি পতাকায় লেখা মন্তব্যে দেখা যায় ‘বড়া হোনা চাহিয়ে, হিন্দুস্থান রোনা চাহিয়ে’। স্থানীয়দের মতে এই লেখাটি ছিল জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহারের লেখা। যার থেকে স্পষ্ট হামলার অনেক আগেই উপত্যকায় প্রবেশ করেছিল সন্ত্রাসবাদীদের গাজী দল।

উল্লেখ্য গত ৩ জানুয়ারি জম্মু-কাশ্মীরেই নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হয় জয়েশ-ই-মহম্মদ সদস্য তলহা এবং উসমান। এই দুই জইশ-ই স্নাইপার কামান্ডো ছিল মাসুদ আজাহারের ভাইপো। এই ঘটনার পরই জয়েশ-ই-মহম্মদ প্রতিশোধ নিতে তার গাজী বাহিনীকে পাঠায়। সূত্রের খবর, ৯ ডিসেম্বর উপত্যকায় প্রবেশ করে সন্ত্রাসবাদীরা। ডিসেম্বরের শেষে তারা পুলওয়ামায় পৌঁছয় সম্ভবত যাত্রীবাহী গাড়িতে।

এরপরেই শুরু হয় হামলা। ১০ ফেব্র‌ুয়ারি শ্রীনগরের লালচকে সিআরপিএফ এর গাড়ি লক্ষ্য করে হয় গ্রেনেড হামলা। যাতে সাত নিরাপত্তারক্ষী ও ৪ জন সাধারণ মানুষ আহত হন। গোয়েন্দাদের মতে এই হামলার মধ্যে দিয়ে সন্ত্রাসবাদীরা তাদের আসল হামলার ছক থেকে গোয়েন্দাদের নজর সরাবার চেষ্টা করেছিল। আর এই সব টুকরো হামাল চলতে চলতেই ১৪ ফেব্র‌ুয়ারি পুলওয়ামায় ঘটেগেল স্বাধীনতার পর জম্মু-কাশ্মীরের হওয়া সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবাদী হামলা।

বৃহস্পতিবার হামলার পরই প্রকাশ্যে আসে জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মহম্মদের ভিডিও। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে আত্মঘাতী জঙ্গি আদিল আহমেদ দরকে।

অবন্তীপুরায় ওই ভয়াবহ জঙ্গি হামলার আগেই ভিডিওটি রেকর্ড করা হয়েছে বলে অনুমান। সেখানে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে এই আদিল আহমেদ দরকে। তার হাতে রয়েছে রাইফেল। জয়েশ-ই-মহম্দের ব্যানারের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে তাকে।