বর্ধমান: বর্ধমান শহরের বেচারহাটের ক্যানেলপাড়ে ভেজাল সস তৈরির রমরমা কারবারের পর্দাফাঁস। ভেজাল সস ও সস তৈরির উপকরণ -সহ দুর্নীতি দমন শাকার জালে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী। বেচারহাটের ওই গোডাউন থেকে প্রচুর পরিমাণ ভেজাল সস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভেজাল সস তৈরির বিভিন্ন উপকরণও বাজেয়াপ্ত করেছেন দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিক ও কর্মীরা।

বর্ধমান শহরের বেচারহাটের ওই এলাকায় বহু দিন ধরেই ভেজাল সস তৈরির কারবার চলছিল। সস তৈরি করে বর্ধমান-সহ লাগোয়া জেলাগুলির বিভিন্ন বাজারে তা সরবরাহ করা হত। এভাবেই দিনের পর দিন ধরে চলছিল এই বেআইনি কারবার। গোপন সূত্রে এই খবর পান দুর্নীতি দমন শাখার অফিসাররা। সূত্র মারফত পাওয়া খবরের ভিত্তিতেই আচমকা বর্ধমান শহরের বেচারহাটের এই কারখানায় হানা দেন দুর্নীতি দমন শাখার অফিসাররা।

ভেজাল সস ও সস তৈরির উপকরণ-সহ গ্রেফতার করা হয় কারখানা-মালিক তথা ভেজাল কারবারের মূল অভিযুক্ত ঋষিকেশ মিত্রকে। বেচারহাটচের ক্যানাল পাড়া এলাকাতেই ধৃত ঋষিকেশ মিত্রের বাড়ি।

এদিকে, দুর্নীতি দমন শাখা সূত্রে জানা গিয়েছে, ঋষিকেশের ফ্যাক্টরি কাম গোডাউনে হানা দেওয়ার সময়েও সেখানে ভেজাল সস তৈরির কাজ চলছিল। ওই কারখানা থেকে ভেজাল ২০০ বোতল টমেটো ও ৬৭ বোতল চিলি সস উদ্ধার হয়েছে। এছাড়াও প্রচুর পরিমাণ সস ও কাসুন্দি তৈরির উপকরণ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে প্রচুর পরিমাণ সসের খালি বোতল ও ছিপি।

দীর্ঘদিন ধরেই কারখানাটিতে ভেজাল সসের কারবার চলছিল। ধৃত ঋষিকেশ মিত্রকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। মিথ্যা মামলায় ঋষিকেশকে ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে আদালতে ধৃতের জামিনের আর্জি জানান তার আইনজীবী। অন্যদিকে, সরকারি আইনজীবী অতীন হালদার আদালতে সওয়াল করে গিয়ে জানান, এই ধরনের সস শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। যে ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে সেটি জামিন অযোগ্য। আদালতে দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে বিচারক ধৃতকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।