স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : ভরতি প্রক্রিয়া নিয়ে জট কাটল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হল এ বছর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশিকা পরীক্ষা হবে। সেক্ষেত্রে ৫০-৫০ সূত্র নিয়েই এগোবে ভরতি প্রক্রিয়া। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্ম সমিতির (ইসি) বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। ফলে এদিনের আলোচনায় বিষয়টি উঠে আসায় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

২২ মে ভরতি কমিটির বৈঠক হয়। ভরতির ব্যপারে ভরতি কমিটির সিদ্ধান্তকেই মান্যতা দেওয়া হল। মঙ্গলবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্ম সমিতির বৈঠক ছিল। ওই বৈঠকেই আলোচনা হয়। আলোচনার পরেই যাদবপুরে কলা বিভাগে ভরতির জট কাটে। উপাচার্য সুরঞ্জন দাসের উপস্থিতেই এই বৈঠক হয়।
কলা বিভাগে যাদবপুরে মোট ১৬ টি বিষয় পড়ান হয়। এই বিভাগগুলির মধ্যে বেশির ভাগ বিভাগেরই মত ছিল যাতে ৫০% প্রবেশিকা পরীক্ষার নম্বর ও ৫০% উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে ভরতি নেওয়া হয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছিল কলা বিভাগের ইংরাজি ও তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগ দুটি। এই জটেরই সিদ্ধান্ত হয় ২২ মে ভরতি কমিটির বৈঠকে। কিন্তু এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল ২৮ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্ম সমিতির বৈঠকে। সেই সিদ্ধান্তই এদিন গৃহীত হয়।

প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে গত বছর গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী স্নাতক স্তরে কলা বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাওয়া ৫০% এবং স্কুল স্তরে ৫০% পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতে ভরতি নেওয়ার দাবি উঠেছিল। মেধা তালিকা তৈরির ক্ষেত্রেও ৫০% প্রবেশিকা এবং বাকি ৫০% উচ্চ মাধ্যমিক বা তার সমতুল পরীক্ষায় প্রাপ্ত ৫০% নম্বরের ভিত্তিতে ভরতি নেওয়ার দাবি ওঠে। তার পরই কলা বিভাগের ভরতি কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় পূর্ববর্তী বছরের নিয়মের ভিত্তিতেই ভরতি নেওয়া হবে। এই নিয়ে আপত্তি ওঠে ইংরাজি ও তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের তরফে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু বিভাগে সরাসরি ভরতি এবং কিছু বিভাগে প্রবেশিকার মাধ্যমে ভরতি এই নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এই পরিস্থিতে কর্ম সমিতির কাছে বিষয়টি এলে তা ফের ফেরত পাঠান হয় ভরতি কমিটির কাছে। ভরতি প্রক্রিয়া নিয়ে বারবার যে প্রশ্ন উঠেছিল আবুটার তরফে সেই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সোমবার গৌতম মাইতি উপাচার্যয়ের কাছে চিঠি দেন।

চলতি মাসের ৩০ মে ভরতি প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে। কলা ও বিজ্ঞান দুই বিভাগেই শুরু হবে স্নাতক স্তরে ভরতি প্রক্রিয়া। তবে ভরতি পরীক্ষার তারিখ এখনও জানা যায়নি। তা পরে জানান হবে।