হাওড়া: হাওড়ায় রয়েছে দুটি লোকসভা আসন৷ হাওড়া সদর ও উলুবেড়িয়া। এছাড়াও শ্রীরামপুরের দুটি আসনের কিছুটা অংশ রয়েছে হাওড়া জেলার মধ্যে। আসন্ন ভোট নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করলেন হাওড়ার জেলাশাসক।

এদিকে, নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে সোমবার দুপুরেই হাওড়া পুরনিগমের ভিতরে থাকা বিভিন্ন হোর্ডিং খুলে ফেলা হয়েছে। হাওড়া পৌর কর্মচারী সমিতির কার্য্যকরী সভাপতি গুরুচরণ চট্টোপাধ্যায় জানান, নির্বাচনী বিধি লাগু হওয়ায় সব হোর্ডিং এদিন খুলে ফেলা হয়েছে।

অন্যদিকে, রবিবার নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর সোমবার থেকেই দেওয়াল লিখন শুরু হয়েছে হাওড়ায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দেওয়াল লিখন শুরু করেছে সোমবার থেকেই।

ফাইল ছবি

সোমবার জেলাশাসক সাংবাদিক বৈঠক করেন নিউ কালেক্টরেট পথের দাবি হলে। ওই সাংবাদিক বৈঠকে হাওড়ার জেলাশাসক চৈতালি চক্রবর্ত্তী বলেন, ৬মে ভোটের জন্য নোটিফিকেশনের দিন ধার্য্য হয়েছে আগামী ১০ এপ্রিল। আগামী ১৮ এপ্রিল নমিনেশন জমা দেওয়ার শেষ দিন। এরপর স্ক্রুটিনি হবে ২০ এপ্রিল। নমিনেশন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২২ এপ্রিল।

জেলাশাসক জানান, এবার হাওড়া জেলায় মোট ভোটার ৩৭ লক্ষ ৮৮ হাজার ৭৭৯ জন। মোট পোলিং স্টেশন ৪ হাজার ৩১৬টি। নির্বাচনী নির্ঘন্ট প্রকাশ হওয়ায় ইতিমধ্যেই লাগু হয়েছে নির্বাচনী বিধি। জেলাশাসক জানিয়েছেন সরকারি অফিস চত্বর সহ পাবলিক প্লেস থেকে হোর্ডিং, ব্যানার সব খোলা হবে।

আরও পড়ুন : প্রার্থী না করে ভোট প্রচারের দায়িত্ব দিয়ে অর্জুনকে ‘কোণঠাসা’ মমতার

জেলাশাসক এদিন জানান, গরম থেকে বাঁচতে ভোটকেন্দ্রে থাকছে অস্থায়ী ছাউনি ও পানীয় জলের ব্যবস্থা। পাশাপাশি শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্যে তৈরি করা হচ্ছে র‍্যাম্প। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে প্রত্যেক ভোটদাতা যাতে ভোট দিতে পারেন সেইজন্য সমস্ত রকমের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

হাওড়া জেলায় শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটার রয়েছেন ১৩৫৮২জন। মূলত দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, কথা বলা বা শোনার সমস্যা, হাঁটার সমস্যা প্রভৃতি সমস্যা রয়েছে এমন ভোটারদের জন্যে বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। এই ভোটারদের ভোটদানে যাতে কোন সমস্যা না হয় সেইজন্যে যেসব ভোটগ্রহন কেন্দ্রে এইসব ভোটাররা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন সেইসব কেন্দ্রে তৈরি করা হচ্ছে র‍্যাম্প।

আরও পড়ুন : লোকসভা ভোটে লড়বেন না এই মহারথীরা

জানানো হয়েছে প্রয়োজনমত স্থায়ী বা অস্থায়ী র‍্যাম্প তৈরি করবে নির্বাচন কমিশন। প্রয়োজনে হুইলচেয়ার নিয়ে ওই ভোটার ইভিএম পর্যন্ত যেতে পারেন। এছাড়াও দোতলা বা তিনতলায় থাকা ভোটগ্রহণ কেন্দ্রগুলির ক্ষেত্রে ওই রকমের ভোটারকে যাতে সিঁড়ি ভাঙ্গতে না হয় তার জন্যে বিশেষ চেয়ারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। থাকবেন স্বেচ্ছাসেবকও। যারা ওই চেয়ারে বসিয়ে শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটারকে ওপরের তলায় থাকা ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে পৌঁছে দেবেন।

প্রত্যেক ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ব্যবহার করা হবে ভিভিপ্যাট। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে এই নির্বাচনে সি-ভিজিলের ওপরে জোর দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়াও ভোটারদের নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে থাকছে একটি হেল্পলাইনও। সি-ভিজিল অ্যাপের মাধ্যমেও কোথাও কোন সমস্যা হলে তার ছবি বা ভিডিও তুলে নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো যাবে। সেক্ষেত্রে নিজের পরিচয়ও গোপন রাখতে পারবেন অভিযোগকারী।