তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: পরিযায়ী হাতির অবাধ বিচরণক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত বাঁকুড়ার সোনামুখী ব্লক এলাকার জঙ্গল ঘেরা বিস্তীর্ণ এলাকা। গত কয়েক বছরে হাতির আক্রমণে সম্পত্তি হানির পাশাপাশি বেশ কিছু প্রাণ হানির ঘটনাও ঘটেছে।

এই অবস্থায় এক প্রকার প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই দিন কেটেছে সোনামুখীর জঙ্গল লাগোয়া শুকোশোল, ননাডাঙ্গা, বেলডাঙ্গা, কোচডিহি, পাঁচাল, পাথরমোড়া, কল্যাণপুর, শিবের বাঁধ, চূড়ামনিপুর সহ বেশ কিছু গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের। বার বার গ্রামবাসীদের তরফে বনদফতরের কাছে হাতির গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানানো হয়েছে। অবশেষে গ্রামের মানুষের সুরক্ষার কথা ভেবে নড়ে চড়ে বসেছে প্রশাসন। বনদফতরের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জঙ্গল লাগোয়া গ্রাম গুলির সীমানায় তারের বেড়া লাগানো হয়েছে। খুশি সোনামুখীর বাসিন্দারা।

সাম্প্রতিক সময়েও যেখানে এই এলাকার প্রধান সমস্যা ছিল হাতি, এখন সেখানে বনদফতরের সৌজন্যে চওড়া হাসি গ্রামবাসীদের। জঙ্গল লাগোয়া গ্রাম গুলির একটা বড় অংশের মানুষের অন্যতম আয়ের উৎস এই শাল, মহুয়ার জঙ্গল। কিন্তু দলমার দামালদের অবাধ যাতায়াতের কারণে সেই আয়ের রাস্তাও এক প্রকার বন্ধ হতে বসেছিল। প্রাণহানির আশঙ্কায় মানুষ আর জঙ্গলমুখ হচ্ছিলেন না। ফলে স্থানীয় অর্থনীতি ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল।

সময় বদলেছে, বনদফতরের সৌজন্যে এখন জঙ্গলের একটা বড় অংশ জুড়ে তারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। সর্বক্ষণের জন্য বনকর্মীদের পাশাপাশি হুলা পার্টির সদস্যরা তৈরী আছেন। ফলে এখন ফের এখানকার জীবন জীবিকার তাগিদে জঙ্গলে যেতে শুরু করেছেন। একদিকে কাঁচা শাল পাতা তুলে এনে তা সেলাই করে যেমন বাজারে বিক্রির সুযোগ তৈরী হয়েছে, তেমনি শুকনো ডাল, পাতা সংগ্রহের পর তা জ্বালানির কাজে লাগছে। সব মিলিয়ে সোনামুখী এলাকায় ঘন বনাঞ্চলের সৌজন্যে ফের আঞ্চলিক অর্থনীতি সমৃদ্ধ হতে শুরু করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুশীল মণ্ডল, তুষার কান্তি মাণ্ডিরা বলেন, এখন হাতির উপদ্রব থেকে অনেকটাই আমরা নিশ্চিন্ত। আগে যখন তখন গ্রামে হাতির দল ঢুকে পড়তো। জমির ফসল নষ্টের পাশাপাশি বাড়ি ঘর ভেঙ্গে তছনছ করে দিত। জঙ্গলে তারের বেড়া দেওয়া ও হুলাপার্টির সক্রিয় ভূমিকায় এখন সেই ঘটনা সিংহভাগ কমে গেছে বলে তারা জানান। অন্যদিকে শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে জঙ্গলে পাতা সংগ্রহে আসা শিবানী টুডু বলেন, হাতির সমস্যা এখন অনেকটাই কমেছে। বনদপ্তরের ভূমিকায় তিনি খুশি বলে জানান।

সোনামুখী বনাঞ্চলের বিট অফিসার শম্ভূচরণ নায়েক বলেন, একদিকে জঙ্গল জুড়ে তারের বেড়া, অন্যদিকে গ্রামবাসী ও বনসুরক্ষা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বনদপ্তরের নিবিড় যোগাযোগ এলাকায় হাতির উপদ্রব ঠেকাতে অনেকটাই কাজে লেগেছে। বনদপ্তর হাতির সমস্যার স্থায়ী সমাধানে যথেষ্ট উদ্যোগী বলে তিনি জানান।