স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: অবৈধ বালি পাচার বন্ধে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সাফল্য পেল প্রশাসন। রবিবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে প্রায় ছ’কিলোমিটার পথ বালির উপর হেঁটে গিয়ে বাঁকুড়ার পাত্রসায়র থানা এলাকার মামুদপুর ও সাতখোল গ্রাম এলাকার দামোদর নদীর বালিঘাটে অভিযান চালিয়ে ৫০টি বালি পরিবহণকারী নৌকা, ১৫ টি জে.সি.বি ও বেশ কিছু বালি বোঝাই লরি ও ট্রাক্টর আটক করেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসক মানস মণ্ডলের নেতৃত্বে এসডিপিও সুকোমলকান্তি দাস, পাত্রসায়র থানার ওসি অতনু কাঞ্জিলাল, বিএলআরও (পাত্রসায়র) তাপস পাল সহ এক বিশাল বাহিনী এই অভিযান চালিয়ে এত বড় সাফল্য মেলায় এলাকার মানুষ খুশি।

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা সফরে এসে বালি পাচার বন্ধে প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ নিতে বলেছিলেন। তার পরেই নড়ে চড়ে বসে প্রশাসন। এর আগে ধারাবাহিকভাবে বিষ্ণুপুর এলাকার পাশিপাশি সমগ্র জেলা জুড়েই অভিযান শুরু হয়েছে। তবে এদিনের প্রশাসনিক সাফল্য অতিতের সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, অভিযান চালানো এই দু’টি বালি ঘাটের মামুদপুরে সরকারী অনুমতি থাকলেও সাতখোলে সে অনুমতি ছিলনা। কিন্তু প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দু’টি ঘাটেই দিনের পর দিন জে.সি.বি দিয়ে বালির তোলার কাজ চলছিল। ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের পাশাপাশি এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও ভূমিক্ষয়ের সম্ভাবনা তৈরী হচ্ছিল। ফলে এলাকার মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবী ছিল এই অবৈধ উপায়ে বালি পাচার বন্ধ করতে হবে।

বিষ্ণুপুরের এসডিপিও সুকোমলকান্তি দাস বলেন, দিনের পর দিন লক্ষ লক্ষ টাকার বালি পাচার হয়ে যাচ্ছিল। তা বন্ধেই আমরা এই বিশেষ অভিযান চালাই। সাফল্যও মেলে। বিএলআরও লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা আটক করা নৌকা, জে.সি.বি, ট্রাক্টর ও লরি মালিকদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনী পদক্ষেপ নেবো। একই সঙ্গে এই ঘটনায় যুক্ত প্রত্যেককে গ্রেফতার করা হবে বলেও তিনি জানান।

মহকুমাশাসক মানস মণ্ডল বলেন, অভিযোগ ছিল। প্রায় ছ’কিলোমিটার বালির উপর দিয়ে আমরা হেঁটে ঐ বালি খাদান গুলিতে পৌঁছাই। বর্ধমান সীমান্তের মামুদপুর ও সাতখোল ঐলাকায় এই অভিযানে ভালো রকম সাফল্য মিলেছে। যা অবৈধ বালি পাচার বন্ধে এযাবৎ বড় সাফল্য বলেই তিনি দাবি করে তিনি বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।