স্টাফ রিপোর্টার, বহরমপুর: দারিদ্রতা ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করল জহিদুল সেখ ও মুস্তাফিজুর রহমান৷ অন্যের সাহায্য নিয়ে চলাফেরা করতে হয় তাঁদের৷

তা সত্ত্বেও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে কোনও বাধা নয় তা প্রমাণ করে দিল মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙা ঝুনকা হাই মাদ্রাসা স্কুলের এই দুই ছাত্র৷

আরও পড়ুন: হিমাচল প্রদেশে মৃদু ভুমিকম্প

এই দুই যুবকের উচ্চতা এতই ছোট যে ঠিক মত হাটতে চলতে পারে না৷ এমনকি তাঁদের বসতে উঠতেও অসুবিধা হয়৷ তাঁদের চলাফেরা করতে হলে অন্যের সাহায্য নিতে হয়৷ তাঁদের এই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সহপাঠীদের কাছে বিদ্রুপের কারণও হয়ে দাড়িয়েছে৷ এই প্রতিবন্ধকতাকে সামনে রেখে অদম্য মানসিক জোরে তাঁরা এবছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে ও সাফল্যের সঙ্গে পাশ করেছে৷

জহিদুল সেখের প্রাপ্ত নম্বর ২৩৭৷ তাঁর মায়ের নাম আলিয়া বিবি৷ বাবা একজন দিনমুজুর৷ কিন্তু বার্ধক্যের কারণে সে এখন আর কাজ করতে পারে না৷ সংসারে অভাব তাঁদের এখন নিত্যদিনের সঙ্গী৷ জন্ম থেকেই জহিদুল পোলিও ও জটিল অস্টিও সমস্যায় আক্রান্ত৷

আরও পড়ুন: বিদেশে টলি-সুন্দরীদের মধুচক্র, গ্রেফতার দুই ভারতীয়!

মুস্তাফিজুর রহমানের প্রাপ্ত নম্বর ২৬৫৷ তাঁর মায়ের নাম গুলনাজ বিবি৷ বাবা একজন কৃষি শ্রমিক৷ জমিজমা কিছুই নেই৷ বেশ কয়েক মাস ধরে তাঁর বাবা অসুস্থ। জন্ম থেকেই মুস্তাফিজুরের শরীরের বৃদ্ধি ঠিক মতো না হওয়ায় উচ্চতা প্রায় আড়াই ফুট৷ একারণে সে ঠিক মতো হাত-পা সঞ্চালনও করতে পারে না৷

এই দুই বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পরীক্ষার্থীর সাফল্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান তাঁদের মায়েদের। নিরক্ষর হলেও দুই মায়ের আন্তরিক প্রচেষ্টা দারিদ্রকতাকে পাশ কাটিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও পরীক্ষায় তাদের এই জয় করা সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইদে অনুরাগীদের উপহার দিলেন ‘করণ’-‘অর্জুন’

এই দুই ছাত্রের পরিবারের কোনও আর্থিক সঙ্গতি নেই তাঁদের কলেজে ভরতি করার ও যাতায়াতের খরচ বহন করা মত৷ ব্লক অফিসে আবেদন করার পরও তাঁরা কোনও প্রতিবন্ধী ভাতা পায়নি বলে জানায় পরিবার৷ তবুও আশায় বুক বেঁধে সন্তানের এই দুই মা চেয়ে রয়েছে যদি কিছু আর্থিক সাহায্য পাওয়া যায় তাঁদের ছেলেদের পড়াশোনার জন্য৷

শুধু জহিদুল সেখ ও মুস্তাফিজুর রহমানই নয় এদের পাশে আছে উত্তর দিনাজপুরের মোহনবাটি হাইস্কুলের ছাত্র দেড় ফুট উচ্চতার সোনু গুপ্তা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ৫১ শতাংশ নম্বর নিয়ে পাশ করেছে৷

আরও পড়ুন: ফল-বিস্কুট সহ একগুচ্ছ জিনিসের দাম বাড়ছে বাংলাদেশে

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।