স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: জেলার জেলায় মহিলাদের উপর নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে৷ তাই এই সব ঘটনার বিরুদ্ধে বর্ধমানের দেওয়ানদিঘী থানা ঘেরাও করে রীতিমত পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন আদিবাসী সমাজের নেতারা৷ তাঁদের দাবি, শুধু বর্ধমানেই নয়৷ রাজ্যের কোনও জেলায় যেন এই ধরণের ঘটনা না ঘটে৷ আর এই ধরণের ঘটনা দিনের পর দিন ঘটতে থাকলে, বিশেষত আদিবাসী কোনো মহিলা যদি অত্যাচারিত হন তাহলে আর তাঁরা চুপ করে বসে থাকবেন না৷

গত বুধবার বর্ধমানের দেওয়ানদীঘি থানার জিয়াড়া গ্রামের এক স্কুল পড়ুয়া আদিবাসী যুবতী গণ ধর্ষণের শিকার হন। আর সেই ঘটনায় দোষীদের ফাঁসির দাবিতে ফুঁসে উঠলেন জিয়াড়া গ্রামের আদিবাসীরা। প্রায় হাজারের বেশি আদিবাসী সমাজের পুরুষ ও মহিলা সশস্ত্র অবস্থায় মিছিল করে দেওয়ানদিঘী থানায় স্মারকলিপি দিয়ে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানালেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। আদিবাসী সমাজের অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের দুই জনকে গ্রেফতার করা হলেও বাকিরা অধরা। এরই প্রতিবাদে দেওয়ানদিঘী থানার জিয়াড়া গ্রাম থেকে সশস্ত্র আদিবাসী সমাজের পুরুষ-মহিলারা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রায় দেড় কিমি রাস্তা মিছিল করে হাজির হন দেওয়ানদিঘী থানায়।

তাঁদের অভিযোগ, গত বুধবার বিকালে ওই যুবতীর এক বন্ধু তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর রাত্রি প্রায় ৮ টা নাগাদ কয়েকজন যুবকের হাতে তাঁকে তুলে দেওয়া হয়। গণ ধর্ষণের শিকার হন ওই যুবতী। রাতেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই যুবতীকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভরতি করা হয়। একইসঙ্গে এই ঘটনায় দেওয়ানদীঘি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়৷ ঘটনায় পুলিশ দুই জনকে গ্রেফতার করে।

আদিবাসী সমাজের নেতা ধীরেন মাণ্ডি জানিয়েছেন, এই ঘটনায় মুল চক্রী ওই যুবতীর বন্ধুকে এখনও পুলিশ গ্রেফতার করেনি। এই ঘটনায় দোষীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে তাঁরা দীর্ঘক্ষণ থানা ঘেরাও করে রাখেন৷ পরে থানায় আসেন ডিএসপি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভাতার থানা থেকেও পুলিশকে নিয়ে আসা হয়। আদিবাসী সমাজের পক্ষ থেকে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এদিন ডেপুটি পুলিশ সুপার (সদর) শৌভিক পাত্রের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে স্মারকলিপিও দেন।

শৌভিক বাবু জানান, ওই ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং দুই জনকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ওই যুবতী গণ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। বাকিদের ধরতে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। এদিন প্রায় ঘণ্টা খানেক থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান আদিবাসী সমাজের মানুষজন। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, কেবলমাত্র দেওয়ানদীঘি থানার অধীনেই চলছে একাধিক মদের ভাঁটি। যা রীতিমত অপরাধীদের উত্সাহ জোগাচ্ছে৷ তার ফলে এই ধরণের অপরাধ ঘটে চলেছে।

হুঁশিয়ারি দিয়ে তাঁরা জানান সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষ ভাঁটিখানা দেখতে পাচ্ছেন৷ আর পুলিশ নাকি তাদের দেখতে পাচ্ছেন না। এরকম হলে এবার তাঁরাই শাস্তির বিধান করবেন৷ তাতে তাঁদের যে শাস্তি হয় তাঁরা মেনে নেবেন। আদিবাসী নেতারা এদিন বলেন, যেভাবে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও আদিবাসী মহিলারা নির্যাতিত হচ্ছেন, ধর্ষিতা হচ্ছেন তাতে তাঁরা আতঙ্কিত। শুধুমাত্র আদিবাসী মহিলারাই নয়, সমাজের যে কোনো মহিলা অত্যাচারিত বা নির্যাতিত হওয়া কখনই সুস্থ সমাজের লক্ষণ নয়। আর এগুলো রদ করবে তো পুলিশ ও প্রশাসন। কিন্তু পুলিশের নাকের ডগায় সবকিছু ঘটলেও পুলিশ কেন তা দেখতে পাচ্ছেন না৷ এটাই চরম আশ্চর্যের।