তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: শাসক-বিরোধী দু’পক্ষের কাছেই ‘ভোট’ বড় বালাই। ভোট এলেই নিশ্চিতভাবে জমে ওঠে ভোটের প্রচার। এই মুহূর্তে ভোটের লড়াই জমে উঠেছে বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের জঙ্গলমহলের আদিবাসী গ্রাম গুলিতে। এই লোকসভা কেন্দ্রে শাসক-বিরোধী দুই পক্ষের কাছেই যে একটা বড় অংকের ‘আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্ক’ই প্রধান লক্ষ্য তাদের প্রচার কৌশলই তা স্পষ্ট।

এই লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত দক্ষিণের জঙ্গলমহলের আদিবাসী ভোট জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে সব পক্ষের কাছে অন্যতম নির্ণায়ক শক্তি হতে চলেছে। আর তাই আদিবাসীদের মন পেতে ঘাস ফুল আর পদ্ম শিবির দুই পক্ষই সাঁওতালী ভাষা আর অলচিকি হরফে দেওয়াল লিখনের কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

তালডাংরা ব্লকের হাড়মাসড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত পড়্যাবাইদ গ্রামে যখন বিজেপির বাঁকুড়া জেলা সাধারণ সম্পাদক নীলাদ্রী দানার নেতৃত্বে স্থানীয় দলীয় নেতা কর্মীরা আদিবাসীদের নিকানো দেওয়ালে পদ্ম ফুলের ছবি এঁকে আর অলচিকি হরফে দলীয় প্রার্থীকে জেতানোর আবেদন রাখছেন, ঠিক তখনই ঐ ব্লকেরই বিভিন্ন জায়গা একই কায়দায় প্রচারে ঝড় তুলছে ঘাসফুল শিবিরও।

একের পর এক আদিবাসী মানুষের ঘরের দেওয়াল সেজে উঠছে ঘাস ফুল আর পদ্মফুল প্রতীকে। তালডাংরার পড়্যাবাইদ গ্রামে দেওয়াল লিখনের ফাঁকে বাঁকুড়া জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক নীলাদ্রী দানা বলেন, এতো দিন শাসক দল জঙ্গল মহলের মানুষকে ‘মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’ দিয়ে গিয়েছে দাবী করে বলেন, দু’টাকা কেজি দরে চাল থেকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা সবই কেন্দ্রীয় প্রকল্প। কিন্তু এই বিষয়টা এতো দিন তারা কেউ জানতেন না। মিডিয়ার দৌলতে সাধারণ মানুষ আজ জেনে গিয়েছে একমাত্র বিজেপিই পারে সাধারণ মানুষের মানোন্নয়ন ঘটাতে।

কিন্তু বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রে আপনাদের তো এখনো প্রার্থীর নামই ঘোষণা হয়নি। প্রার্থী ছাড়াই প্রচার কিভাবে সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তরে নীলাদ্রী দানা বলেন, ‘ওস্তাদের মার শেষ রাতে’। প্রার্থী যিনিই হোননা কেন, আমাদের কর্মীরা নরেন্দ্র মোদিকে সামনে রেখে ভোট করবেন। স্থানীয় বিজেপি কর্মী ভৈরব টুডুর গলাতেও একই সুর। তিনি বলেন, সারা দেশে প্রার্থী আমাদের একজন, নরেন্দ্র মোদি।

অন্যদিকে তালডাংরা সংলগ্ন আদিবাসী গ্রাম গুলিতে অলচিকিতে দেওয়াল লিখছে তৃণমূলও। তৃণমূল নেতা তারাশঙ্কর রায় বলেন, তারাই প্রথম অলচিকিতে দেওয়াল লেখা শুরু করেন। পরে বিজেপি তাদের দেখে ‘নকল’ করছে বলেও তিনি দাবী করেন। তবে যে যাই নকল করুক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্যের উন্নয়নের নিরিখে সুব্রত মুখোপাধ্যায় ‘বিপুল ভোটে’ জিতবেন বলে তিনি আশাবাদী বলে জানান।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

জীবে প্রেম কি আদৌ থাকছে? কথা বলবেন বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ অর্ক সরকার I।