তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: বছর শেষে পর্যটকদের অভিনব উপহার দিল মুকুটমনিপুর ডেভেলপম্যান্ট অথরিটি। শনিবার সন্ধ্যায় বাঁকুড়ার রাণী মুকুটমনিপুরে শুরু হল প্রথম বর্ষ ‘আদিবাসী ফুড ফেস্টিভ্যাল’। পাশপাশি মুকুটমনিপুরে আগত পর্যটকদের রাত্রিযাপণ করার জন্য তাবু (TENT) এর উদ্বোধন হয়৷ দুটি উদ্বোধন করেছেন খাতড়ার মহকুমাশাসক, মুকুটমনিপুর ডেভেলপম্যান্ট অথরিটির মেম্বার সেক্রেটারি রাজু মিশ্র ও স্থানীয় বিধায়ক তথা ডেভেলপম্যান্ট অথরিটির ভাইস চেয়ারম্যান জ্যোৎস্না মাণ্ডি।

জল, জঙ্গল, পাহাড় আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে প্রতিবছর অসংখ্য পর্যটক মুকুটমনিপুরে বেড়াতে আসেন। বছর শেষ আর শুরুর দিনগুলিতে সেই সংখ্যাটা আরও কয়েক গুন বেড়ে যায়। এবার সেই সন্ধিক্ষণেই শুরু হল অভিনব আদিবাসী ফুড ফেস্টিভ্যাল। বাঁকুড়ার তাপমাত্রা যখন নিম্নমুখী, কনকনে ঠাণ্ডা উপভোগ করছেন মানুষ। তখন জলাধারের সামনে ফায়ার প্লেস থেকে কিছুটা দূরে সারি সারি মাটির উনুনে কাঠের আগুনে রান্না হচ্ছে রকমারি পদ। আদিবাসী সম্প্রদায়ের মহিলাদের হাতে তৈরি অপূর্ব স্বাদের জিল পিঠে, অর্থাৎ মাংসের পুর দেওয়া এক ধরণের পিঠে৷

 

লেটো, পোড়া পিঠে, বাঁশ মাংস সহ আদিবাসীদের নাম না জানা অসংখ্য ধরণের লোভনীয় খাবার তৈরি হচ্ছে। যার স্বাদ পেতে লম্বা লাইন চোখে পড়েছে বাইরে থেকে আসা পর্যটক থেকে স্থানীয় মানুষের। সব মিলিয়ে প্রথম দিনই জমজমাট আদিবাসী ফুড ফেস্টিভ্যাল। আর সাধারণ আদিবাসী মহিলার সঙ্গে পিঠে তৈরিতে হাত লাগিয়েছেন বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডিও। যা এই উৎসবের অন্যতম বড় পাওনা বলে অনেকে মনে করছেন।

মুকুটমনিপুর ডেভেলপম্যান্ট অথরিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার এখানে ১৩ টি খাবারের স্টল রয়েছে। আদিবাসী সম্প্রদায়ের নিজস্ব ঘরানার খাবার চেখে দেখার পাশাপাশি আদিবাসী লোকসংস্কৃতি উপভোগের ঢালাও আয়োজন রয়েছে। রংবেরং-এর আলোয় পুরো এলাকা সেজে উঠে উঠেছে। ধামসা মাদলের বোল, আদিবাসী নাচ আর গানে এই মুহূর্তে জমজমাট মুকুটমনিপুর।

এই বিষয়ে স্থানীয় বিধায়ক ও মুকুটমনিপুর ডেভেলপভ্যান্ট অথরিটির ভাইস চেয়ারম্যান জ্যোৎস্না মাণ্ডি বলেন, মূলত আদিবাসী প্রধান এলাকা হিসেবে চিহ্নিত জঙ্গলমহল। আদিবাসী সমাজের মানুষের লোকাচার, খাদ্যাভ্যাস বহুচর্চিত। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জঙ্গল মহল ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের মানোন্নয়নে বিশেষ জোর দিয়েছেন। চলতি পর্যটন মরশুমে তাঁরই অনুপ্রেরণায় মুকুটমনিপুরে এই আদিবাসী ফুড ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন আদিবাসী সমাজের মা বোনেরা খাবার বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন৷

অন্যদিকে আদিবাসী সমাজের মানুষ একেবারে অন্য ধরণের খাবারের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। সব মিলিয়ে মুকুটমনিপুরের পর্যটকদের স্বাগত জানানো ও তাদের রসনা তৃপ্তি ও স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতিই এই উৎসব আয়োজনের মূল লক্ষ্য বলে তিনি জানান।

হুগলি থেকে আসা জুবেনা পারভিন মতে, একেবারে অন্যরকম অভিজ্ঞতা। আগে বেশ কয়েকবার এসেছি। আবারও এলাম। এবার আদিবাসী ফুড ফেস্টিভ্যালের সৌজন্যে এখানকার পুরো পরিবেশটাই যেন বদলে গিয়েছে। নানান রকম পিঠে, ঘুগনি থেকে ব্যাম্বো চিকেন বিক্রি হচ্ছে। যা এবারে এসে একেবারে বাড়তি পাওনা বলে তিনি জানান।

একই অভিজ্ঞতার কথা শোনান পাশের জেলা পুরুলিয়া থেকে আসা রাজেশ সিং, দীপা সিংরা। তারা বলেন, আদিবাসী ফুড ফেস্টিভ্যাল শুরু হচ্ছে শুনেই এখানে চলে এসেছি। শনি ও রবি দু’টো দিন ছুটি। আর সেই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে জীবনে প্রথম বার আদিবাসী খাবারের স্বাদ গ্রহণের সুযোগটা হাত ছাড়া করতে চাইনি। প্রতিটি খাবারই দারুণ। খুব যত্ন করে ওনারা রান্না করছেন। সব মিলিয়ে সময়টা বেশ ভালোই কাটছে বলে তারা জানালেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।