তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: প্রাচীন রীতি মেনে ব্যতিক্রমী এক উৎসবে মেতে উঠলেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ। সাত ভাই আর এক বোনকে নিয়ে জনপ্রিয় লোককথাকে মেনে হাজার বছরের পুরনো মেলা শুরু বাঁকুড়ায়৷ তালডাংরার পাকুরডিহা গ্রামের এই মেলায় ফি বছর জনসমাগম বাড়ছে। গ্রামের মাঠের সরু আল পথ বেয়ে অসংখ্য মানুষ হাজির হয়ে যাচ্ছেন মেলার মাঠে।

প্রচলিত লোককথা হলো, প্রায় হাজার বছর আগে বাঁকুড়ার তালডাংরার পাকুড়ডিহা গ্রামে পরিবার পরিজনদের সাথে সাত ভাই ও এক বোন বাস করতেন। সেই সময় ঘন জঙ্গলে বেষ্টিত পাকুড়ডিহা গ্রামের মানুষের জীবিকা ছিল মূলত জঙ্গল নির্ভর। পশু শিকার করেই চলত তাদের সংসার। একসময় সেই সাত ভাই একমাত্র বোনকে বাড়িতে রেখে পশু শিকারে বেরিয়ে আর ফিরে আসেনি।

বিপদ সংকুল জঙ্গলে সাত ভাইয়ের বিপদ হয়েছে বুঝতে পেরে একমাত্র বোন শুরু করেন কঠোর তপস্যা। সেই তপস্যার জেরেই কয়েকদিন পর সাত ভাই সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থায় বাড়ি ফিরে আসেন। এই ঘটনার পর গ্রামবাসীদের ধারণা হয় ঐ বোন ঐশ্বরিক ক্ষমতা সম্পন্ন কোনও দেবী।

তার পর থেকেই সেই বোনকে দেবী জ্ঞানে পুজা করতে শুরু করেন গ্রামের বাসিন্দারা । হাজার বছর পেরিয়ে আজও সেই সাত ভাইয়ের বোনকে দেবী স্মরণ করে ‘সাত ভায়া মিট্টাং মেশ্রা’ উৎসবে মেতে ওঠেন গ্রামের মানুষ। এদিন পৃথিবীর সমস্ত বোনকে দেবী মনে করে এই উৎসবে গ্রামের যুবকরা কৃচ্ছসাধন করেন।

এক মাস ধরে ব্রত পালন করে নির্দিষ্ট দিনে গ্রামের বাইরে একটি ফাঁকা মাঠে আগুন জ্বালিয়ে তাতে নতুন মাটির পাত্রে ফুটন্ত ঘিয়ে হাত ডুবিয়ে পিঠে তৈরি করেন গ্রামের আদিবাসী যুবকরা। থাকে আরও অসংখ্য ব্যতিক্রমী লোকাচার। ব্যতিক্রমী এই উৎসব দেখতে দূর দূরান্ত থেকে মানুষ এই সময় ভিড় জমান পাকুড়ডিহা গ্রামে ।

এক মাস ধরে ব্রত পালন শেষে মাঘ মাসের একটি নির্দিষ্ট দিনে সকাল থেকেই সকলে হাজির হয়ে যান। আদিবাসী নাচ, গানে মেতে ওঠেন মানুষ। রকমারী দোকানে চলে দেদার বিকিকিনি। গ্রামবাসী চুনারাম মাণ্ডি বলেন, পুরো পৌষ মাস জুড়ে চলে ব্রত পালন। মাঘ মাসের প্রথম দিন থেকে পুজোর দিন পর্যন্ত্য বিশেষ আর কঠোর নিয়মের মধ্যে সকলকে চলতে হয়।

শেষ দিনে একবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে পুজো শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ বাড়ি ফিরতে পারবেন না, এটাই নিয়ম। এই উৎসব শুরুর দিন নিয়ে কোন লিখিত প্রমাণ না থাকলেও হাজার বছরের প্রাচীন বলেই দাবী স্থানীয়দের।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

জীবে প্রেম কি আদৌ থাকছে? কথা বলবেন বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ অর্ক সরকার I।