তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: আদিবাসী সংস্কৃতি, লোক সংস্কৃতি ও পর্যটন শিল্পের প্রসারে তিন দিনের ২১তম বর্ষের মুকটমনিপুর মেলা শুরু হল। শুক্রবার মেলার উদ্বোধন করেন বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্ম্মু। উপস্থিত ছিলেন খাতড়ার মহকুমাশাসক রাজু মিশ্র, খাতড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জয়ন্ত মিত্র, সিমলাপাল পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ রামানুজ সিংহমহাপাত্র, মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক রামশঙ্কর মণ্ডল প্রমুখ।

জল, জঙ্গল, পাহাড় আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে ফি বছর অসংখ্য পরিযায়ী পর্যটক ‘বাঁকুড়ার রাণী’ মুকুটমনিপুরে বেড়াতে আসেন। সারা বছর পর্যটকদের কমবেশী আনাগোনা থাকলেও শারদোৎসবের পর থেকে ফেব্রুয়ারী শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত সেই সংখ্যাটা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও অন্যতম পছন্দের জায়গা মুকুটমনিপুর। জেলা সফরে এলে তিনি চেষ্টা করেন এখানে এসে কিছুটা সময় কাটাতে। তাঁরই ইচ্ছানুসারে কয়েক বছর আগে তৈরী হয়েছে ‘মুকুটমনিপুর ডেভেলপম্যান্ট অথরিটি’। তার পর থেকেই মুকুটমনিপুরের উন্নয়নে ব্যাপক কাজ হয়েছে। ‘ক্লীন মুকুটমনিপুর গ্রীণ মুকুটমনিপুর’ স্লোগানের বাস্তবায়নে এখানে যে কোনও ধরণের তামাক ও নেশাজাত দ্রব্য বিক্রয় ও সেবন নিষিদ্ধ হয়েছে। পাশাপাশি থার্মোকল ও প্লাষ্টিকজাত দ্রব্যের ব্যবহার সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ।

মুকুটমনিপুরে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে এর আগে ফান উৎসব, আদিবাসী ফুড ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হয়েছিল। এবার মুকুটমনিপুর মেলায় আদিবাসী সংস্কৃতির প্রসারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবারই প্রথম মেলার মুক্তমঞ্চে খাতড়া মহকুমা এলাকার আটটি ব্লকের বেশ কিছু আদিবাসী নাচ ও গানের দল অংশগ্রহণ করবে। এই ধরণের উদ্যোগের ফলে মুকুটমনিপুরে পর্যটক সমাগম বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

উদ্বোধনের পর বাঁকুড়া জেলা সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্ম্মু বলেন, ২১তম মুকুটমনিপুর মেলা শুরু হলো। আদিবাসী সংস্কৃতি, লোকসংস্কৃতির পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে মুকুটমনিপুরকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতেই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মহকুমা এলাকার আটটি ব্লকের আদিবাসী ও অআদিবাসী লোকশিল্পীরা তাদের অনুষ্ঠান করার জন্য এখানে সুযোগ পাচ্ছেন। এর ফলে সকলের মধ্যে একটা সম্প্রীতির বাতাবরণ তৈরী হয় বলে তিনি জানান।