কলকাতা: তৃণমূলে ফের তারকা যোগ। ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিলেন সঙ্গীত শিল্পী অদিতি মুন্সি। সূত্রের খবর তাঁকে প্রার্থী করা হতে পারে।

“হৃদমাঝারে রাখব”র মতো কীর্তন গান নিজের কন্ঠে গেয়ে অদিতি মুন্সি বাঙালিদের মনমুগ্ধ করেছে। তাঁর কীর্তনের সুর বারেবারেই মোহিত করেছে শ্রোতাদের। তিনি জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে গিয়ে ঘাসফুল শিবিরের পতাকা হাতে তুলে নেন অদিতি মুন্সি। সৌগত রায়ের উপস্থিতিতে তৃণমূলে যোগ দিলেন এই গায়িকা। তাঁর যোগদান প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা সৌগত রায় বলেন, ‘আমি গর্বিত যে, আমার এলাকার মেয়ে অদিতি তৃণমূলে যোগ দিলেন। আমি অদিতিকে তৃণমূল কংগ্রেসে স্বাগত জানাচ্ছি।’

অন্যদিকে অদিতি মুন্সি জানিয়েছেন, ‘খুব ভালো লাগছে এই দলে যোগ দিয়ে। আমায় যোগ্য মনে করায় প্রাণের দিদিকে ধন্যবাদ জানাই।” তিনি বলেন, “আমাদের সংগীতশিল্পীদের জন্য চিন্তা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমার মনে হয় না তাঁর মতো আর কেউ এভাবে ভাবতে পারেন। তিনি বাংলার প্রকৃত রূপকার। “

উল্লেখ্য, প্রার্থী তালিকা ঘোষণার ঠিক আগেই এভাবে তৃণমূলে মুন্সির যোগদান করায় জল্পনা ছড়িয়েছে। তাঁকে প্রার্থী করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কে অদিতি মুন্সি?

সুরেলা গলা দিয়ে তিনি মন জয় করেছেন রিয়েলিটি শোয়ের দর্শক থেকে আপামর সঙ্গীতপ্রেমীদের । সারেগামাপা এর মঞ্চ থেকে যাত্রা শুরু করলেও সংগীত শিল্পী অদিতি মুন্সির গণ্ডিটাকে আরও বড় করে নিয়েছেন তার পরেই।

মূলত কীর্তনাঙ্গ বাউলাঙ্গের গানে অদিতি মুন্সি নিজের জায়গা তৈরি করেছেন টলিউডে। নিজের সিঙ্গেল তো আছেই তার পাশাপাশি টলিউডের বিভিন্ন সিনেমায় প্লেব্যাক করেছেন তিনি। তার মধ্যে অন্যতম গান পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায় ছবি গোত্রের ‘বৈষ্ণব সেই জন’।

অদিতি মুন্সির শ্বশুরবাড়িতে কিন্তু রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল বরাবরই। কিন্তু অদিতি মুন্সি নিজে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে ছিলেন না এতদিন। এবার মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি যোগদান করলেন তৃণমূলে। বিধানসভা নির্বাচনে তাকে কোন এলাকার প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানো হয় তাই আপাতত দেখার।

প্রসঙ্গত, ভোটের আগে এরাজ্যে যুযুধান দুই পক্ষ বিজেপি ও তৃণমূল উভয় শিবিরেই তারকা যোগের ছড়াছড়ি। বুধবারেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন টলি নায়িকা সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁর হাতে ঘাসফুলের ঝাণ্ডা তুলে দেন তৃণমূলের মহাসচিব তথা শিক্ষা পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় এবং মন্ত্রী ব্রাত্য বসু।

যোগদান করার পরে সংবাদিক সম্মেলনে সায়ন্তিকা বলেন, ‘ খুব একটা গুছিয়ে কথা বলতে পারি না। শিখে নেব। ১০ বছর ধরে সঙ্গে ছিলাম। আজ অফিশিয়ালি দলে যোগ দিলাম। মমতা বন্দোপাধ্যায় সুযোগ করে দিয়েছেন। আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে, আশা করি সেটা পালন করব। মানুষের সেবা করব। সঠিক সময় এসেছে, বাংলার মানুষের ইচ্ছা প্রকাশ করার।’

সম্প্রতি হুগলির সাহাগঞ্জে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় তৃণমূলে যোগ দেন একঝাঁক তারকা- রাজ চক্রবর্তী, মানালি দে , সায়নী ঘোষ, পরিচালক সুদেষ্ণা রায়, জুন মালিয়া, কাঞ্চন মল্লিক , অনন্যা চক্রবর্তী, মনোজ তিওয়ারি , সৌমিক দে (ফুটবলার) প্রমুখ। তার আগে বর্ষীয়ান অভিনেতা দীপঙ্কর দে, ভরত কল, সৌরভ দাস, পিয়া সেনগুপ্ত, কৌশানি, রণিতা দাস, সৌপ্তিক, দলে যোগদান করেছিলেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.