স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: গতবছর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পাওয়া গিয়েছিল ডেঙ্গির জীবাণু বহনকারী এডিস ইজিপ্টাই মশার লার্ভা৷ এই বছরও ফের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা জল থেকে পাওয়া গেল এডিস ইজিপ্টাই মশার লার্ভা৷ এমনকী, উপাচার্যের ঘরের সামনের মাটির টবে জমা জলেও এই লার্ভা মিলেছে বলে জানিয়েছেন কলকাতা পুরনিগমের মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) অতীন ঘোষ৷

শনিবার দুপুর ১২টা নাগাদ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে যান মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) অতীন ঘোষ, ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মধুছন্দা দেব ও বরো চেয়ারম্যান তপন দাশগুপ্ত৷ গোটা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর পরিদর্শনের পর মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ জানান বিভিন্ন জায়গায় এডিস মশার লার্ভার খোঁজ পাওয়া গিয়েছে৷ তাদের সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার চিরঞ্জিব ভট্টাচার্যও৷

পরিদর্শন শেষে অতীন ঘোষ জানিয়েছেন, তাঁরা বেশ কিছু জায়গা চিহ্নিত করেছেন যেখান থেকে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গিয়েছে৷ যেমন, ত্রিগুণা সেন অডিটোরিয়ামের উল্টোদিকে দুটি ড্রামে জমা জলে মশার লার্ভা ছিল৷ ত্রিগুণা সেন অডিটোরিয়ামের উল্টোদিকে যেখানে নির্মাণকাজ চলছে সেখানেও দু’তিনটে জায়গায় জমা জলে লার্ভার খোঁজ পাওয়া গিয়েছে৷

গ্রাউন্ড সুপারভাইজারের ঘরের সামনের পরিত্যক্ত একটি লোহার আলমারি সহ মোট আটটি জায়গায় এই লার্ভা পাওয়া গিয়েছে৷ ৩৯ নম্বর বেঙ্গল বিএনএন এনসিসির পাশে পরিত্যক্ত প্ল্যাস্টিকের উপর এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গিয়েছে৷ স্কুল অফ এনভাইরনমেন্ট স্টাডিস ও স্কুল অফ ফিজিক্যাল এডুকেশনের মাঝে জমা জলেও মিলেছে লার্ভা৷ এমনকী উপাচার্যের ঘরের মাটির ঘটে জমা জল থেকেও পাওয়া গিয়েছে প্রাণঘাতী ডেঙ্গির জীবাণু বহনকারী মশার লার্ভা৷

যদিও, আগের বছরের তুলনায় পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নত হয়েছে বলে দাবি অতীন ঘোষের৷ তিনি বলেন, ‘‘গতবারের থেকে পরিস্থিতি নিশ্চয়ই ভালো হয়েছে৷ কলকাতা পুরনিগম থেকে, বিশেষ করে সলিড ওয়েস্ট বিভাগের তরফ থেকে থেকে প্রতিনিয়ত সাহায্য করে হচ্ছে৷ বর্ষার আগেই তাঁরা প্রায় ৩২ লরি জঞ্জাল পরিষ্কার করেছেন৷’’ এ ছাড়া, যেসব জায়গা থেকে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গিয়েছে সেই সব জায়গাগুলিকেও পরিষ্কার করা হচ্ছে৷ টিচার্স কোয়ার্টারের জঞ্জাল সরানোর কাজও এদিন সরানো হচ্ছিল বলে জানান তিনি৷

ভবিষ্যতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরকে আরও পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন অতীন ঘোষ৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের ক্যাম্পাসটাকে নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে৷ এই জায়গাগুলি দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ব়্যাপিড অ্যাকশন টিমকেও বলেছি, সামনে দাঁড়িয়ে থেকে কাজ করাতে হবে৷ এত বড় ক্যাম্পাস৷ তাই এখানকার লোক আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি চারপাশের লোকেদের আক্রান্ত হওয়া খুব স্বাভাবিক ঘটনা৷’’ এই কারণেই যাদবপুর ক্যাম্পাসকে পুরনিগমের তরফ থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এই বছর৷ এই কাজে তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও সহযোগিতা করছে বলে জানিয়েছেন মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য)৷

এ ছাড়া, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য যেভাবে একটি যৌথ কমিটি গঠন করেছে তার আদলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও আধিকারিকদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করার প্রস্তাব দিয়েছেন অতীন ঘোষ।নিয়মিত নজরদারির কাজ যাতে যৌথভাবে করা যায় তার জন্যই এই কমিটি তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে৷ এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার চিরঞ্জিব ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘আমরা এই প্রস্তাবটাকে অত্যন্তভাবে স্বাগত জানাচ্ছি৷ এভাবে কলকাতা কর্পোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে যদি কোনও কমিটি গঠন করে আমরা নিয়মিত নজরদারির বিষয়টা করতে পারি, সেটা খুবই ভালো বিষয়৷’’

গত বছর ডেঙ্গির প্রকোপে প্রাণ গিয়েছিল বহু মানুষের৷ যাদবপুর, বিজয়গড়ের মত জায়গার অনেকেই ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছিলেন৷ কোন কোন জায়গায় ডেঙ্গির সম্ভাবনা বেশি তা কী এই বছর চিহ্নিত করা হয়েছে? উত্তরে অতীন ঘোষ বলেন, ‘‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্যই একটি দুর্বল জায়গা৷ এ ছাড়া, এখান থেকে আমরা ৯৭ ওয়ার্ডের সিপিডব্লুডি ওয়ার্ডে গিয়ে জায়গা চিহ্নিত করা হবে৷’’ পাশাপাশি, শনিবারই আলোচনা বৈঠক করা হবে বরোর সব ওয়ার্ডের মেডিক্যাল অফিসার ও ভেক্টর কন্ট্রোল ইনচার্জদের নিয়ে৷ এই বৈঠকেই এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য)৷