ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রদেশ সভাপতির পদ খোয়ানোর পরই অধীর চৌধুরীর বিজেপি যোগের জল্পনা মাথা চাড়া দিয়েছে৷ তার মধ্যেই একটি খবর সেই জল্পনায় ঘৃতাহুতি দিল৷ বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহে একদিন দিল্লিতে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন অধীর চৌধুরী৷ সেখানে দুজনের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়৷ একসঙ্গে নৈশভোজও করেন তাঁরা৷

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে অধীর চৌধুরীর সাক্ষাৎ, সংসদের ভিতরে দুজনের খোশগল্প কিংবা মুর্শিদাবাদের বেতাজ বাদশার জন্য বিজেপি-র রাজ্য নেতাদের দরজা খুলে রাখা নিয়ে রাজনীতিতে কম চর্চা হয়নি৷ তবু হালে দিল্লিতে মুকুল রায়ের বাড়িতে তাঁর যাওয়া নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে৷

মাসখানেকও হয়নি সোমেন মিত্র প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হয়েছেন৷ অধীর চৌধুরীকে করা হয়েছে প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান! না-জানিয়ে তাঁকে সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়াটা ভালোভাবে নিতে পারেননি অধীর চৌধুরী৷ ঘনিষ্ঠ মহলে সে কথা জানিয়েওছেন৷ এমনকী, পুজোর পরে কলকাতায় আলাদা পার্টি অফিস নেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ রাজ্য বিজেপি-র কোনও কোনও নেতার মতে, দলে গুরুত্ব খর্ব হওয়ায় মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপির সঙ্গে ‘লাইন আপ’ করে রাখছেন অধীর চৌধুরী৷

মুকুল রায়-ঘনিষ্ঠ এক নেতার অবশ্য দাবি, এটা নতুন কোনও ব্যাপার নয়, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি থাকার সময়েও মুকুল রায়ের দিল্লির বাড়িতে অধীর চৌধুরী একাধিকবার গিয়েছিলেন৷ দুজনের সম্পর্ক এমনিতেই মধুর৷

বিজেপি নেতারাও চান, অধীর চৌধুরীর মতো একজন দাপুটে লড়াকু নেতা তাঁদের দলে আসুন৷ অধীর চৌধুরীর মতো জাতীয়তাবাদী নেতা বিজেপিতে এলে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে লড়াই সহজ হবে বলেও প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কারণ, অধীর চৌধুরী বহরমপুর থেকে চার বারের জেতা এমপি৷ স্রেফ নিজের জোরে৷

২০১৯-এর ভোটে কংগ্রেস যদি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা করতে চায়, তাহলে কি বিজেপিতে যাবেন? একাধিকবার সংবাদ মাধ্যমের এই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে একাধারে কট্টর মমতা-বিরোধী এবং কট্টর সিপিএম-বিরোধী অধীরবাবুকে৷ কিন্তু প্রতিবারই সেই প্রশ্নের উত্তর ফুৎকারে উড়িয়ে তিনি বলেছেন, এর উত্তর নতুন করে আর কী দেব? আমার অবস্থান সবাই জানে।

প্রকাশ্যে যদিও মুকুল রায়ের আশাবাদী বক্তব্য সম্পর্কে অধীর চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া, ‘‘ও কি গণৎকার যে, কী করব তা ও বলে দেবে?’’রাজ্য বিজেপি কিন্তু হাল ছাড়ছে না৷ মুখে নানা কথা বললেও অনেক ভেবেচিন্তেই কি তাহলে অধীর চৌধুরী পা ফেলছেন? হয়তো তাঁর ‘গুরুদেবে’র আরএসএস সমাবেশে যোগদান তাঁকে এক নতুন অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে৷