স্টাফ রিপোর্টার, বহরমপুর: কাশ্মীরে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বুধবার সকালে সাগরদিঘির বহাল গ্রামে গেলেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বহাল গ্রামে দাঁড়িয়েই তিনি ফোনে কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সচিবের সঙ্গে।

অধীর চৌধুরী জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকই দেহ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে বলে তাঁকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব। পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে একটি চিঠি পাঠিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ এবং বেশ কয়েকটি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন অধীর। এদিন বহরমপুরের সাংসদ বলেন, “এই ঘটনায় বহু মানুষ আতঙ্কিত। আরও অনেক মানুষ মুর্শিদাবাদ থেকে কাশ্মীরে গিয়েছেন কাজ করতে, তাঁদের ব্যাপারে কোনও খোঁজখবরই পাওয়া যাচ্ছে না।

মঙ্গলবার কাশ্মীরের কুলগামে কাজ করত যাওয়া পাঁচ শ্রমিককে হত্যা করেছে জঙ্গিরা। তাঁরা প্রত্যেকেই সাগরদিঘির বহালনগরের বাসিন্দা।শ্রমিকদের পরিবার জানায়, মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। কাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে এ বিষয়ক হেল্প লাইন বা কোনও বিকল্প ব্যবস্থার দাবি জানান কংগ্রেস সাংসদ।

মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের সঙ্গে পরিবারের জন্য একটা চাকরির ব্যবস্থা করার কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন অধীর রঞ্জন। একইসঙ্গে রুটি-রুজির সন্ধানে বাইরে থেকে আসা শ্রমিক মজুরদের সুরক্ষার কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে সে নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘কাশ্মীরে বর্বরোচিত হত্যার ঘটনায় আমরা গভীর ভাবে শোকাহত। মুর্শিদাবাদের পাঁচ শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। পরিবারের লোকজনের দুঃখ ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। এই মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে পরিবারগুলিকে সব রকম সাহায্য করা হবে।’

নিরীহ শ্রমিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। রাজভবন থেকে বিবৃতি প্রকাশ করে রাজ্যপালের বক্তব্য, ‘‘এই কাপুরুষোচিত হামলার নিন্দা করা উচিত সবার। এরা মানবতার শত্রু, জাতির শত্রু।’’