স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: এবার লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম বড় টার্গেট বহরমপুর কেন্দ্র৷এই কেন্দ্রের টানা চারবারের সাংসদ অধীর চৌধুরীকে হারাতে মমতার সেনাপতি শুভেন্দু অনেকদিন ধরেই আদাজল খেয়ে মাঠে পড়ে রয়েছেন৷

মুর্শিদাবাদের তৃণমূলের পর্যবেক্ষক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কথা দিয়েছেন, বহরমপুর তিনি উদ্ধার করে দেবেন-ই৷ এমনকি সেই কথা রাখতে মরিয়া শুভেন্দু নিজেই নেত্রীর কাছে অধীরের বিরুদ্ধে লড়ার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছিলেন৷ কিন্তু অধীরও স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিয়েছেন, একচুলও জমি না ছাড়ার৷

বাংলার রাজনীতিতে মমতা-অধীর দ্বৈরথ নতুন নয়। মমতার ব্যাপারে বরাবরই আপোসহীন অধীর। এতোটাই যে ২০০৯ সালের লোকসভা বা ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক জোট হলেও মুর্শিদাবাদে তা মানতে চাননি তিনি।প্রবল ঘাসফুল ঝড়েও ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল ৩ লক্ষ ৫৬ হাজার ২১১।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, তৃণমূলের কাছে বহরমপুরের লড়াই মর্যাদার লড়াই। মমতা জানেন, মুর্শিদাবাদে জোড়াফুল ফোটানোর পথে তাঁর সবথেকে বড় কাঁটা অধীর চৌধুরী। এই অধীর মিথ-কে ভাঙতেই জনপ্রিয় ও দক্ষ নেতা শুভেন্দুকে এগিয়ে দিয়েছেন মমতা৷

এবার অধীরের বিরুদ্ধে তৃণমূল প্রার্থী করেছে অপূর্ব সরকারকে৷ যিনি একসময় অধীরের ডান হাত ছিলেন৷ তারউপর ঘনিষ্টদের একে একে দল ছাড়ায় অধীরের অতীতের ভোট মেশিনারি তাঁর সঙ্গে নেই।এই চ্যালেঞ্জের মধ্যেই নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস অটল রয়েছে তাঁর৷

রবিবার দলের জেলা কার্যালয়ে বসে মুর্শিদাবাদের এককালের রবিনহূড বলেন, জেলার পুলিস ও প্রশাসনের উপর ভরসা নেই। ওদের মদতে তৃণমূল সন্ত্রাস চালিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে। ভোটারদের কাছ থেকে সচিত্র পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। টাকা ছড়িয়ে ভোট কেনার চেষ্টা চলছে। আজ, ভোটদানে বাধা দেওয়া হলে মানুষ সঙ্ঘবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

দলীয় কর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “হয়তো গুজব উঠতে পারে, অধীর চৌধুরীর গলাটা নেই, তাও বুথ ছাড়বেন না। হয়তো গুজব উঠতে পারে, অধীর চৌধুরী খুন হয়েছে, তাও বুথ ছেড়ে নড়বেন না, লাইন ছেড়ে নড়বেন না।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, অধীর জানেন এই কেন্দ্রে জেতার জন্য তৃণমূল যে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাবে। আর তাই ভোটের আগের দিনেই এ সব অভিযোগ করে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ বাড়ালেন এই পোড়খাওয়া নেতা।