স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: জেলাশাসকের দফতরের সামনে কংগ্রেসের আইন অমান্য আন্দোলন কর্মসূচির মঞ্চে শাসকদল ও পুলিশকে কার্যত হুমকি দিলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ও সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী৷

তিনি বলেন ‘তৃণমূল পঞ্চায়েতে ভোট লুঠ করেছে। লোকসভা ভোটেও ভোট লুঠ করবে৷ একটা ভোট বা একটা বুথও যদি তৃণমূল বা তাদের পা চাটা ভৃত্য এখানকার পুলিশ লুঠ করতে পারে, তবে আমরা আমাদের জনপ্রতিনিধির পদ ছুঁড়ে ফেলে দেব।

এদিন তার বক্তব্যে আগাগোড়া শাসক তৃণমূলকে তুলোধনা করেন তিনি। অধীর চৌধুরী সাম্প্রতিক ব্রিগেড সমাবেশকে নিয়ে বলতে গিয়ে বলেন, ‘আগে ‘দিদি’র ডাকে ব্রিগেডে গ্রাম থেকে মানুষ সঙ্গে চিঁড়ে মুড়ি বেঁধে যেতেন। এখন ওনার ব্রিগেড উপলক্ষ্যে তিন চার দিন ধরে কলকাতা শহরে পিকনিক চলছে। আর ঐ সমাবেশের পর উনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। দিদি বলছেন আমি নেব দেশ। ভাইপো প্রদেশ’৷

চিটফাণ্ড প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ওনার আঁকা ছবি এক সময় ১কোটি ৮৬ লাখ টাকায় কিনেছিলেন সুদীপ্ত সেন। তিনি জেলে। আর এক ছবির ক্রেতা কাল গ্রেফতার হয়েছেন। এবার ঐ ১ কোটি ৮৬লাখ টাকার ছবি বাঁকুড়া শহরে নিলাম করলে ১টাকা ৮৬পয়সাও দর উঠবে না’৷

বাঁকুড়া থেকে কংগ্রেসের টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত ও পরে তৃণমূলে যোগ দেওয়া সম্পা দরিপাকেও একহাত নেন অধীর চৌধুরী৷ বলেন, ‘তিনি আমাকে কথা দিয়েছিলেন, কংগ্রেস দলের আনুগত্য থেকে কখনো সরে যাব না। কিন্তু পালিয়েছেন। তিনি নাকি অনেক শিক্ষিতা। তার পরিবারের অনেক বড় বড় ব্যাপার।’

এরপর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, ‘পারলে আগামী লোকসভা নির্বাচনে দলের ঝাণ্ডা ধরিয়ে এদের জিতিয়ে দেখান। একই সঙ্গে যারা কংগ্রেসের টিকিটে জিতে তৃণমূলে ভিড়েছেন সেই সব বিধায়কদের পদত্যাগ করিয়ে লোকসভা ভোটের সঙ্গে বিধানসভা উপনির্বাচন করিয়ে ক্ষমতা থাকলে তাদের ফের ঐ দলের হয়ে জিতিয়ে দেখান’৷

এদিন হিন্দু স্কুল মাঠ থেকে অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে কংগ্রেস কর্মীরা মিছিল করে বাঁকুড়া জেলা শাসকের দফতরের সামনে এলে পুলিশ ব্যারিকেড করে তাদের আটকায়। পুলিশের সঙ্গে কিছুক্ষণ হালকা খণ্ডযুদ্ধ হয় কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে। পরে পুলিশ সবাইকে প্রতীকী গ্রেফতার করে ও ছেড়ে দেয়। এদিনের আইন অমান্য আন্দোলনে অধীর চৌধুরী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার ডেপুটি লিডার নেপাল মাহাতো, বিধায়ক মুস্তাক আলম, আইএনটিউসি নেতা কামারউদ্দিন কামাল, মহিলা নেত্রী রাধারাণী বন্দ্যোপাধ্যায়, জেলা কংগ্রেস সভাপতি নীলমাধব গুপ্ত প্রমুখ।