নিউজ ডেক্স, কলকাতা: সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপি চমকপ্রদ রেজাল্ট করেছে৷ এরপরই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার ধূম পড়ে গেছে৷ মঙ্গলবারই তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক এবং মুকুল রায়ের ছেলে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন৷ শুধু শুভ্রাংশু নয় সঙ্গে আরও দুজন বিধায়ক এবং ৫০ জন তৃণমূল কাউন্সিলর বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন৷ বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি অমিত শা আগেই বলেছিলেন ১০০জন তৃণমূল নেতা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে৷ তৃণমূলের এই দুর্দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোঁচা মারার সুযোগ ছাড়লেন না বহরমপুর থেকে কংগ্রেসের বিজয়ী সাংসদ অধীর চৌধুরী৷

রাজ্যে জোরালো গেরুয়া ঝড়ে যেখানে সিপিএম-কংগ্রেসের সঙ্গেই শাসক দল তৃণমূলের অনেক শিবির উড়ে গেছে সেখানেই নিজের গড় অক্ষত রেখেছেন কংগ্রসের লড়াকু নেতা অধীর চৌধুরী৷ বাংলা রাজনীতির রবিনহুডের মমতা বিরোদিতা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই৷ সময় সুযোগ পেলে অধীর চৌধুরী কখনও মমতা বিরোধিতা থেকে বিরত থাকেন না৷ সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির চমকপ্রদ রেজাল্টের পর একের পর এক তৃণমূল থেকে গেরুয়া শিবিরে যাচ্ছেন৷

মঙ্গল এই ঘটনার উল্লেখ করে নিজের ফেসবুক পেজে অধীর লেখেন, ‘‘ভাঙছে তৃণমূল, দল ছেড়ে পালাচ্ছে ‘দিদি’র বাহিনীর নক্ষত্রকূল! দিদি’র দল ভাঙ্গাচ্ছে মোদীর দল! দিদি’ ভাবছে কাদেরকে মানুষ করলাম যারা দিদি’র অসময়ে পালাচ্ছে৷ একদিন আমারও মনে হয়েছিল ― History has a nasty habit of repeating itself বলবো, নাকি বলবো ― Poetic Justice! সেটাই ভাবছি৷’’

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে রাজ্যে বাম শাসনের অবসান হওয়ার পর একের পর এক পুরসভা-পঞ্চায়েত তৃণমূলের দখল নিয়েছিল তৃণমূল৷ বাম এবং কংগ্রেসের কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত সদস্যরা দলে দলে ভিড়ছিলেন শাসক দলে৷ ক্ষমতার হাত বদল হতে হতে এক সময় কার্যত গোটা রাজ্যেই সমস্ত পুরসভা ও পঞ্চায়েত চলে যায় তৃণমূলের হাতে৷ এই ধারা শেষ আট-ন বছর ধরেই চলেছে৷ সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের মুখেও কংগ্রেস থেকে ভাঙিয়ে মৌসম বেনজির নূরকে নিজের দলে নিয়ে এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ গনি খান ফ্যামিলির এই মেয়ে এবার নিজের পরিবারের বিরুদ্ধে ভোটে লড়ে হেরেছেন৷