স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: করোনাভাইরাসের ধাক্কায় বেসামাল অর্থনীতি সামাল দিতে এমপিল্যাডের বরাদ্দ ২ বছর বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করলেন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা বলেন, ‘‘সরকারের আজকের সিদ্ধান্ত থেকে প্রমাণিত যে দেশ আর্থিক জরুরি অবস্থার দিকে চলেছে।’’

অধীর বলেন, ‘‘দরকার হলে সাংসদদের বেতন আরও কমিয়ে দিন। কিন্তু এমপিল্যাড-এর টাকা ভোটারদের চাহিদা অনুযায়ী সাংসদরা খরচ করেন। সেটা চালু রাখা হোক।’’ তিনি টুইটে লিখেছেন, ‘এমপি ল্যাডের টাকা বন্ধ করে দেওয়ার অর্থ জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের ওপরে অবিচার করা। এলাকার চাহিদা অনুযায়ী ওই টাকা খরচ করেন সাংসদরা।’

এক এক জন সাংসদ ফি বছর নিজের এলাকার উন্নয়নে খরচের জন্য ৫ কোটি টাকা পান। লোকসভায় ৫৪৩টি ও রাজ্যসভায় ২৪৩টি আসন রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সাংসদদের এলাকা উন্নয়ন বা এমপিল্যাড তহবিলে খরচও আগামী দু’বছর বন্ধ থাকলে মাথা পিছু ১০ কোটি টাকা ব্যয়সঙ্কোচ হবে। ফলে কেন্দ্রের রাজকোষে প্রায় ৭,৯০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

করোনা সঙ্কটের ধাক্কায় প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সাংসদদের বেতন এক বছরের জন্য ৩০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালেরাও ‘স্বেচ্ছায়’ নিজেদের বেতন ৩০ শতাংশ কম নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, করোনার মোকাবিলার জন্য অধীর চৌধুরী রাজ্য সরকারকে নিজের সাংসদ তহবিল ৩ কোটি টাকা দিয়েছেন। তবে শুধু অধীর নন, তৃণমূল, বিজেপি ও কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্যও এমপিল্যাড থেকে টাকা দিয়েছেন।

কংগ্রেসের পাশাপাশি তৃণমূলও এমপিল্যাড তহবিলের খরচ আগামী বন্ধ করার সমালোচনা করেছে। টুইট করে সৌগত মন্তব্য করেছেন, ‘২ বছরের জন্য এমপি ল্যাডের বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছি। এতে সরকারের খামখেয়ালিপনা ধরা পড়ছে। এই সিদ্ধান্ত একবারেই অগণতান্ত্রিক।’