স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিধানসভায় শুক্রবারের ঝামেলা নিয়ে সরব হলেন লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী৷ তাঁর পরিষ্কার মত মমতা বন্দোপাধ্যায় আর তার সেনাপতিরা বিধানসভায় রীতিমত দাদাগিরি করছেন৷ বিধানসভা যে তৃণমূলের পার্টি অফিস নয়, সেকথা মনে করিয়ে দিয়েছেন অধীর৷

এদিন অধীর বলেন কংগ্রেসের বিধায়কদের ধমকে চমকে চুপ করিয়ে দেওয়ার প্রবণতা নিন্দনীয়৷ দিদি গণতন্ত্রের কথা বলেন, তার গণতন্ত্র কি দিল্লিতে এক আর বাংলায় আরেক? প্রশ্ন তোলেন অধীর৷ তিনি এদিন বলেন
আইনসভায় রাজ্যের জন্য আইন তৈরি হয়৷ যারা মন্ত্রী, তাঁরা আইনসভায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন, এটাই নিয়ম৷ যাঁরা জনপ্রতিনিধি, তাদের দায়িত্ব মানুষের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা, প্রশ্ন করা৷ সেখানে কংগ্রেস দলের ও বামপন্থী দলের বিধায়করা এই প্রশ্নই করতে চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গদের৷ কিন্তু বাধা দেওয়া হল কোন সাহসে?

আরও পড়ুন : বিধানসভায় হাতাহাতি, ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ থামালেন মমতা

শুক্রবার মমতাকে একহাত নিয়ে অধীর বলেন মুখ্যমন্ত্রী যেখানে নিজে উপস্থিত, তার সামনেই তাঁর মন্ত্রী ধমকাচ্ছেন, চমকাচ্ছেন৷ সেখানে মুখ্যমন্ত্রী চুপ কেন? আপনার দলের মন্ত্রীর কীভাবে হিম্মত হয় বিরোধী দলের বিধায়কদের ধমক দেওয়ার, চমকানোর? মান মর্যাদা, ধ্বংস্ব করা হচ্ছে বিধানসভার৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিধানসভার মর্যাদা হানি করা হচ্ছে৷

অধীরের দাবি বিধানসভাটা মস্তানি করার জায়গা নয়৷ বিরোধী বিধায়কদের প্রশ্ন করার অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ এমনভাবে ধমকানো হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীকে নেমে আসতে হচ্ছে৷ কেন এই পরিস্থিতি হবে৷ মুখ্যমন্ত্রীর উচিত ছিল একথা বলা যে আমার দলের মন্ত্রীরা যে আচরণ করছে, তা আমি সমর্থন করি না৷

কংগ্রেসের যে আদর্শ রয়েছে, কোনও দলের তা নেই বলেও এদিন মন্তব্য করেন বিরোধী দলনেতা৷ তিনি বলেন সংসদে কংগ্রেসের কোনও সাংসদ ভুল মন্তব্য করলে, তাঁকে দ্রুত সেই মন্তব্য প্রত্যাহার করতে বলা হয়৷ এই নজির আর কেউ তৈরি করেনি৷

আরও পড়ুন : একঢাল চুল কাটলেন আরজে লাবণ্য, কেশহীনা হয়ে বড় নজির তরুণীর

মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে অধীরের দাবি মুখ্যমন্ত্রী পদের কী করে মর্যাদা রক্ষা করতে হয়, তা জানেন না মমতা৷ সেই মর্যাদা রক্ষা করতে জানেন না তৃণমূলের মন্ত্রীরাও৷ বাংলায় এই সংস্কৃতি বন্ধ হোক৷

কংগ্রেস বিধায়ক কমলেশের পাশে দাঁড়িয়ে এদিন পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করেন অধীররঞ্জন চৌধুরী৷ তিনি বলেন, হলদিয়া লুঠের পয়সা নিয়ে সে বিধায়ক হয়নি৷ আজ তাঁর প্রতিবাদ করার ক্ষমতা দেখে কংগ্রেস গর্বিত৷ কংগ্রেস আজীবন মানুষের জন্য লড়ে যাবে৷ আজ যা তৃণমূল করে যাচ্ছে, তা বিধানসভার রেকর্ডে থেকে যাবে৷ মনে রাখবেন আগামী এর উত্তর দেবে৷