নয়াদিল্লিঃ  নভেম্বরেও কাশ্মীরের আঁচ সংসদে। আজ সোমবার থেকে শুরু হল শীতকালীন অধিবেশন। অধিবেশনের প্রথমদিনেই ফের একবার কাশ্মীর ইস্যুতে সরব হলেন বিরোধী দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। কাশ্মীর ইস্যুতে কার্যত মোদী সরকারের ভূমিকায় সরব হলেন তিনি। বহরমপুরের এই সাংসদের দাবি, মোদী সরকারই কাশ্মীর ইস্যুকে আন্তর্জাতিক সমস্যা করে তুলেছে। যার ফলে দেশের মানুষকে ভুগতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

একই সঙ্গে বাংলার ‘রবিনহুড’ বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাংসদরা কাশ্মীর ঘুরে যাচ্ছেন। আর এখানেই অধীর চৌধুরীর প্রশ্ন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাংসদরা কাশ্মীর ঘুরতে পারলেও কেন ‘দেশের সাংসদদের কাশ্মীরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। আর এভাবে কাশ্মীর ইস্যুকে আন্তর্জাতিক ইস্যু বানানোর জন্যে মোদী সরকারকেই দায়ী করেন তিনি।

শীতকালীন অধিবেশনের প্রথমদিনেই কাশ্মীর ইস্যুতে ঝড় সংসদে ঝড় তুলে দিয়েছেন কংগ্রেসের এই বিরোধী দলনেতা। তিনি আরও বলেন, ‘সংসদের অধিবেশন চলছে অথচ ন্যাশনাল কনফারেন্সের সাংসদ ফারুখ আবদুল্লা এখনো গৃহবন্দি। তাঁকে অধিবেশনে যোগ দিতে দেওয়া হোক।’ কাশ্মীরে শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে নির্যাতন চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ৩৭০ ধারা প্রয়োগ নিয়ে একটি মন্তব্য করে কিছুদিন আগেই বিতর্কে জড়িয়েছিলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী৷ সংসদে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে কেন্দ্রের কী অবস্থান? জানতে চেয়েছিলেন, কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের যে পর্যবেক্ষণ রয়েছে, সেখানে দিল্লির কী ভূমিকা হবে?

অধীর চৌধুরী সংসদে বলেছিলেন, “সরকার স্পষ্ট করুক কাশ্মীর ইস্যু অভ্যন্তরীণ না দ্বিপাক্ষিক বিষয়।” সিমলা চুক্তি, লাহোর ডিক্লেরেশনের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জবাব চান তিনি। তাঁর এই বক্তব্য অস্বস্তিতে ফেলে কংগ্রেসের প্রাক্তন চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীকে। তিনি খানিকটা বিরক্ত প্রকাশ করেন। এরপরই চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে দেন বিজেপি সাংসদরা।

এই বিতর্কের পরেও বারবার কাশ্মীর ইস্যুতে সরব হতে দেখা গিয়েছে অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে। প্রকাশ্যে মোদী সরকারের সমালোচনা করেছেন বারবার। জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে এর আগে জানান, “জম্মু-কাশ্মীরের ওই (পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর) অংশকে ভারতবর্ষের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমরাই প্রথম দাবি করেছিলাম । ১৯৯৪ সালে কংগ্রেস সরকারই প্রথম লোকসভা ও রাজ্যসভায় এই সংক্রান্ত প্রস্তাব পাশ করেছিল ।”

কাশ্মীরে আদৌও শান্তি ফিরেছে কিনা সেই উদ্বেগ নিয়ে অধীর বলেন, “৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর কাশ্মীরের অবস্থা খতিয়ে দেখতে সেখানে যান রাহুল গান্ধী৷ কিন্তু তাঁকে কাশ্মীরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি৷ দেশের লোকই সেখানে যেতে পারছেন না৷ ২৫টা হোটেলের বুকিং বাতিল হয়েছে৷ বাঙালিরা প্রতিবছর দুর্গাপুজোর সময় কাশ্মীরে যান৷ এবার যেতে পারছেন না৷ ” সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে সেই কাশ্মীর ইস্যুকে সামনে রেখেই আরও একবার মোদী সরকারের সমালোচনা করলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।