নয়াদিল্লি: পদ্ম এবং ঘাস ফুলের ভরা বাজারেও নিজের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছেন রবিন হুড অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বাংলার সেই দাপুটে নেতার উপরেই নাকি বড় ভরসা করতে চলেছে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস। তার কাঁধেই দেওয়া হতে পারে লোকসভার দায়িত্ব।

সোমবার এই খবর সামনে আসে। প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একাধিক নেতা এই সম্ভাবনার কথা জানান সাংবাদিকদের। যদিও সেই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি বহরমপুরের সাংসদ। তবে মঙ্গলবার সকালে দিল্লিতে সাংবাদিকদের সামনে এই বিষয়ে মন্তব্য করেন তিনি।

এবার লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে এসেছে গেরুয়া ঝড়। তৃণমূলের মূল বিরোধী হিসেবে আরও স্পষ্ট হয়েছে বিজেপির নাম। আর কংগ্রেস ও সিপিএমের অস্তিত্ব প্রায় নেই বললেই চলে। তবু এই দুর্দিনেও নিজের গড় টিকিয়ে রেখেছেন অধীর চৌধুরী। প্রায় ৮০,০০০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বহরমপুরে। বলা যায়, কংগ্রেসের শেষ আশা-ভরসা হয়ে উঠেছেন রবিন হুড।

তাই এবার হাই কমান্ডের বিশেষ নজরে তিনি। লোকসভায় কংগ্রেস দলনেতা হিসেবে অধীর চৌধুরীকে বেছে নেওয়া হতে পারে। এমনই ইঙ্গিত মিলেছে কংগ্রেস শিবির থেকে। এই বিষয়ে অধীরবাবু বলেছেন, “সর্বদল বৈঠকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যা বলার গুলাব নবি আজাদ বলেছেন। আমরা দেশের সার্বিক উন্নয়ের প্রধান বিশয়গুলি নিয়ে আলোচনা করেছি। বিরোধী দলনেতা কে হবেন তা নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।”

আগামী সোমবার থেকে শুরু হতে চলেছে লোকসভার বাজেট অধিবেশন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত লোকসভায় দলীয় নেতা বাছার সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব। পাশাপাশি, গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারকে কোণঠাসা করতে কৌশল ঠিক করার বিষয়েও গুছিয়ে উঠতে ব্যর্থ বিরোধী শিবির।

এই পদে অবশ্য সাংসদ শশী থারুরের নামও শোনা যাচ্ছে। এর আগে কংগ্রেস সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করার পরে লোকসভায় দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর নাম শোনা গিয়েছিল। তবে তিনি পদত্যাগ না করায় সেই সম্ভাবনা আর থাকছে না।

জানা গিয়েছে, সর্বদল বৈঠকে ছিলেন বাংলার কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী এবং কেরলের কংগ্রেস সভাপতি কে সুরেশ। তাঁদের সঙ্গে রবিবারের ওই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা গুলাম নবি আজাদ। এরপর থেকেই অধীরের নাম নিয়ে জল্পনা উঠেছে। অধীর বা সুরেশের মধ্যে কাউকে লোকসভায় কংগ্রেস দলনেতা হিসেবে বেছে নিতে পারে হাইকমান্ড।