নিউজ ডেস্ক: বাংলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা কি ‘দিদি’ সম্পূর্ণ বেসরকারীকরণ করাতে চাইছেন? প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের দাপুটে কংগ্রেস নেতা এবং প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

নআরএস কাণ্ড নিয়ে উত্তাল সমগ্র রাজ্য। ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বহু মানুষকে। রাজ্যের রাজধানী শহর কলকাতার এনআরএস মেডিক্যাল কলেজে আক্রান্ত হয়েছেন ডাক্তারি পড়ুয়ারা। একজনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। যার প্রতিবাদে কর্মবিরতি শুরু করেছে ওই মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়ারা। সেই ধারা বজায় রেখে রাজ্যের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়ারাও একই পন্থা নিয়েছেন।

এই প্রতিবাদের কারণে রাজ্য জুড়ে প্রবল প্রতিকূলতার মধ্যে পড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। অনেক রোগী বঞ্চিত হচ্ছেন স্বাভাবিক চিকিৎসা পরিষেবা থেকে। মুখ্যমন্ত্রীর হুমকিতে তা আরও জটিল হয়েছে। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্দোলনকারি চিকিৎসকেরা। রাজ্যপালের হস্তক্ষেপেও হয়নি সমাধান।

এই অবস্থায় ফের একবার বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী অধীর রঞ্জন চৌধুরী। এই প্রতিকূল অবস্থায় অনেক রোগী বাধ্য হয়ে নার্সিং হোমে যাচ্ছেন। যার ফলে বেসরকারি ক্ষেত্রের বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে। এই বিষয়ে শুক্রবারে নিজের ফেসবুক পেজে অধীরবাবু লিখেছেন, “নার্সিং হোমে রোগীর ঢল, ঘটি-বাটি বিক্রি করে চিকিৎসা করাতে ছুটছে রাজ্যের সাধারণ মানুষ।”

একই সঙ্গে তিনি আরও লেখেন, “‘দিদি’র পণ, ‘কোনোমতেই ডাক্তার বাবুদের সাথে কথা বলে সমাধান কোরবো না’!!! বাংলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা কি ‘দিদি’ সম্পূর্ণ বেসরকারীকরণ করাতে চাইছেন?”

এনআরএস কান্ড নিয়ে এর আগেও মুখ খুলেছেন বহরমপুরের সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। সমগ্র বিষয়ের সমাধান চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছেন তিনি। একই সঙ্গে মঙ্গলবার রাতের দিকে ফেসবুকে এই বিষয়ে তিনটি পোস্ট করেছেন তিনি। প্রথম পোস্টে তিনি লেখেন, “সারা বাংলা জুড়ে অরাজকতা, ডাক্তার-ধর্মঘট, রুগীরা প্রাণ হাতে হাসপাতালের দরজায়, কিন্তু সরকার নীরব। ডাক্তারবাবুরা, আপনারা মানুষের কাছে ঈশ্বরের প্রতিনিধি, ঈশ্বরের অংশ, তাই অনুরোধ, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুন। সারা বাংলার সাধারণ মানুষ আপনাদের সঙ্গে থাকবে। ধিক্কার জানাই মুখ্যমন্ত্রীকে, রাজ্য জ্বলছে আর ‘নিরো’ মুখ্যমন্ত্রী নির্বিকার।”

এই পোস্টের এক ঘণ্টা মতো পরে পর পর দু’টি পোস্ট করেন অধীরবাবু। সেখানেও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে বিষয়টিতে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেওপ দাবি করেছেন তিনি। একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, “ডাক্তারবাবুদের ওপর দৈহিক আক্রমণ, কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি তীব্র তীব্র তীব্র প্রতিবাদ জানাই। বাংলায় একি অরাজক অবস্থা!!! এখনই মুখ্যমন্ত্রী ‘দিদি’, (আপনি আবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীও) হস্তক্ষেপ করুন।”

সর্বশেষ পোস্টে সার্বিক পরিস্থিতি বিচার করে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বহরমপুরের সাংসদ। তিনি লিখেছেন, “আহত ডাক্তারবাবুকে বাঁচানোর জন্য সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিক। হাসপাতালে ডাক্তারের অভাবে রোগীরা মারা যাচ্ছে, এরকম চলতে থাকলে আগামীদিনে আরও রোগী মারা যেতে পারে, এ এক ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে চলেছে আমাদের বাংলা”