স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র সঙ্গে কংগ্রেস হাত মিলিয়ে চলছে বলে দাবি করেছেন তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্র তথা রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। নাম না করে ডেরেকের এই দাবিকে পাল্টা কটাক্ষ করলেন লোকসভায় কংগ্রেসের নেতা তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।

তাঁর কথায়, ‘উল্টা চোর কোতোয়াল কো ডাঁটে’। কদিন আগেই কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীর ডাকা বৈঠকে মধ্যমণি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকে মোদী সরকারের একাধিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।

কিন্তু তৃণমূলের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার জিএসটি ইস্যুতে সংসদ চত্বরে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ৮টি বিরোধী দল যোগ দিলেন কংগ্রেসকে ডাকা হল না। ডেরেক বলেন, ‘‘কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করবে, বিজেপি-র সুবিধা করে দেবে আর আশা করবে সংসদে আমরা কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব? এটা হতে পারে না।’’

ডেরেকের কথায়, ‘‘সংসদ চলাকালীন কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূল নিরাপদ দূরত্ব বহাল রেখে চলবে।’’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, সোমেন মিত্রের প্রয়াণের পর পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পদে অধীরকেই বসানোয় সেই তৃণমূলের ‘গোঁসা’ হয়েছে। কারণ বরাবরই অধীর কট্টর মমতা বিরোধী।

তাই কংগ্রেসকে বাদ দিয়েই সংসদে বাংলার দাবিদাওয়া নিয়ে লড়াই করছে তৃণমূল। তবে অধীর চৌধুরীও তৃণমূলকে ছাড়েননি। পাল্টা জবাব দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, “আমি শুনতে পেলাম সংসদের তৃণমূল দল বলেছে পশ্চিমবঙ্গে নাকি বিজেপি ও কংগ্রেস হাত মিলিয়েছে! ‘উল্টা চোর কোতোয়াল কো ডাঁটে’, আজ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বাড়-বাড়ন্ত তৃণমূলের জন্য। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থানের কারণ প্রসঙ্গে বিতর্ক হোক টিভি চ্যানেলে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে তৃণমূলের সভানেত্রী সহ অন্যান্য নেতাদের চ্যালেঞ্জ করলাম বিতর্কে।”

চড়া সুরে অধীর বলেন, “রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন হল। কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন বিরোধী দল সে নির্বাচনে বিজেপি-র মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়াই করল। তখন তৃণমূল বলল, আমরা নির্বাচনে নেই। শুধু তাই নয়, নাগরিকত্ব আইন সংসদে পাশ হওয়ার সময়েও তৃণমূল ভোটাভুটিতে অংশ নেয়নি।

ডেরেকের নামোচ্চারণ না করলেও অধীর বলেছেন, ‘‘যে পণ্ডিত ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে বিজেপি-র সঙ্গে হাত মেলানোর অভিযোগ তুলছেন, তাঁকে বলব আত্মসমীক্ষা করতে। বিজেপি-কে বাংলার মাটিতে আনল কে? কংগ্রেস? না তৃণমূল?’’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে তিনি বলেছেন, ‘‘বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আপনি জিএসটি-কে কেন্দ্র করে কয়েকটা রাজ্যের আঞ্চলিক দলকে নিয়ে একটা প্রতিবাদ করলেন। তার মানে এটা নয় যে, তারা আপনাকে সর্বভারতীয় নেত্রী হিসেবে মেনে নিল। ভারতের সব আঞ্চলিক দল জানে, কংগ্রেসকে ছাড়া বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়ার চেষ্টা বৃথা হবে।’’

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।