স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর ময়দান হারাল আরও এক ফুটবল-নক্ষত্রকে। লকডাউনের মধ্যেই চলে গেলেন চুনী গোস্বামী। তবে ফুটবলের ময়দান থেকে রাজনৈতিক ময়দান, অনেকের স্মৃতিতেই বার বার উঠে আসছে চুনী গোস্বামীর নানা মুহূর্ত। কংগ্রেসের ডাকাবুকো নেতা অধীর চৌধুরী শোকপ্রকাশ করেছেন এই কিংবদন্তীর মৃত্যুতে।

টুইটারে তিনি লিখেছেন, “চুনী দার সঙ্গে জার্মানির ফ্র্যাঙ্কফুর্ট থেকে বার্লিন একসাথে ট্রেনে চড়ে গেছি, ট্রেনের মধ্যে দেখা হয়েছিল। ফুটবল ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনাল একসঙ্গে দেখেছিলাম। চুনী দা লন্ডন গেল, সেখানেও এক হোটেলে ছিলাম। এত সহজ সরল প্রাণবন্ত মানুষটা নেই, ভাবতে বুক ভারী হয়ে যাচ্ছে।”

শোকপ্রকাশ করে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেছেন, “আমি সৌভাগ্যবান যে, দর্শক হিসেবে আমি চুনি গোস্বামীর খেলা দেখেছি। তাঁর ক্রীড়া শৈলী ভারতীয় ফুটবলে এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস। চুনি দার সঙ্গে খেলার মাঠ থেকে শুরু হওয়া আমার পরিচয় পরবর্তী কালে ব্যক্তিগত স্তরে চলে গিয়েছিলো। তাঁর মৃত্যুতে ভারতীয় ফুটবলের এক অপুরণীয় ক্ষতি হলো।”

১৯৬২ সালের এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী ভারতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। চুনী গোস্বামীর ফুটবলজীবন ছিল অজস্র কীর্তিতে উজ্জ্বল। তবে তার মধ্যেই এশিয়ান গেমসে সোনা জয় ছিল সেরা মুকুট। বৃহস্পতিবার হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন এই প্রবাদপ্রতিম ফুটবলার। বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

১৯৫৭ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রথম বার পা রেখেছিলেন চুনী। ১৯৬৪ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তাঁকে শেষ বার দেখা গিয়েছিল জাতীয় দলের হয়ে। এই সময়ের মধ্যে এশিয়ান গেমসে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছাড়াও চুনীর নেতৃত্বে ১৯৬৪ সালে এশিয়ান কাপে রানার-আপ হয়েছিল ভারত। ছয় মাস পরে মারডেকা ফুটবলের ফাইনালেও উঠেছিল দল। কিন্তু, ফাইনালে জয় আসেনি। ক্লাব ফুটবলে চুনী শুধু মোহনবাগানের হয়েই খেলেছেন।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV