স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বাবরি রায় নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নীরব কেন, সেই প্রশ্ন তুললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।

বাবরি মসজিদ ধ্বংস নিয়ে বুধবার এক মাইলফলক রায়ে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত লালকৃষ্ণ আডবাণী সহ ৩২ জন অভিযুক্তকেই বেকসুর খালাস করেছে। এমনকি আদালত জানিয়েছে, বাবরি মসজিদ ধ্বংস পরিকল্পনা করে করা হয়নি।

সিবিআই বিশেষ আদালতের এই রায় নিয়ে যখন একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে সমাজকর্মীরা নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বাবরি রায় নিয়ে অধীর চৌধুরী বলেছেন, “সারা পৃথিবীর মানুষ চোখের সামনে দেখলো বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হলো। এর থেকে দুর্ভাগ্যের আর কি হতে পারে! দেশের বিচার ব্যবস্থার উপর মানুষের ভরসা থাকছে না, এটা গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপক্ষ রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত। মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বিচার-ব্যবস্থা, যারা মুক্তি পেল তারা নিজেরা গর্বিত। বিচারের বাণী ঠিক মতো ধ্বনিত না হলে আজ বাবরি মসজিদ ভাঙছে, কাল আমাদের মাথা ভাঙবে। হয়তো দেখবো আরও একজন বিচারপতি রাজ্যসভার এমপি হচ্ছে।”

এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, “আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি তৃণমূলের যে নেতারা কথায় কথায় টুইট করেন, তাঁরা কি আজ সবাই ঘুমিয়ে পড়েছেন! তাঁরা কি জানেনই না বাবরি ধ্বংস মামলায় সব অভিযুক্তকেই বেকসুর খালাস করা হয়েছে!” তাঁর কথায়, “আমি বরাবরই বলেছি, তৃণমূল ধর্মনিরপেক্ষ দল নয়। একদা বিজেপির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দোস্তি ছিল। এখনও আপদে বিপদে তাঁদের স্মরণ করেন। আদালতের রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানালে পাছে হিন্দুরা অসন্তুষ্ট হন, তাই তৃণমূল এখন ঘাপটি মেরে আছে।”

যদিও তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায় নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “এই রায়ে আমি খুবই হতাশ। ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতীক ছিল একটা মসজিদ। সেটা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল। হাজার হাজার লোক জমা হল। আদালত বলল, কোনও পূর্বপরিকল্পনা ছিল না। ভিড়ের জন্য হয়ে গিয়েছে। এটা আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।”

সৌগত রায়ের কথায়, “আমার মনে হয় এই রায়ে ধর্মনিরপেক্ষতা ধাক্কা খাবে। এখন তো আদালতের সব রায়ই কেন্দ্রের শাসকদলের পক্ষে হচ্ছে। রামজন্মভূমির ব্যাপারেও হয়েছে। আমি ভাবছিলাম এমনটাই হবে।”

তিনি এও বলেন, “আমি আশা করে থাকব যে মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড আপিলে যাবে। উচ্চ আদালতে হয়তো বিচার হবে। আটাশ বছর পর রায় বেরলো। আমাদের দেশের বিচারব্যবস্থা কেমন দ্রুত চলে তার একটা উদাহরণ স্থাপন হল।”

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।