ফাইল ছবি৷

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: শ্রীনগরের ডিএসপি দেবেন্দ্র সিং জঙ্গিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পরই নতুন করে পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার তদন্তের দাবি জানালেন লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী৷

নিজের বাড়িতে দুই জঙ্গিকে আশ্রয় দিয়েছিল দেবেন্দ্র সিং। গ্রেফতারের পর দেবেন্দ্রর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এই তথ্য জানতে পারে পুলিশ। শ্রীনগরের বাদামিবাগ ক্যান্টনমেন্টে ছিল দেবেন্দ্র সিংয়ের কোয়ার্টার। সেখানেই হিজবুল জঙ্গিদের লুকিয়ে রেখেছিল এই পুলিশ কর্তা। সর্বক্ষণ কড়া নিরাপত্তায় মোড়া থাকত এই কোয়ার্টার। তাহলে কীভাবে সকলের চোখ এড়িয়ে দেবেন্দ্রর এমন কাণ্ড ঘটালেন তাই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

এও জানা গিয়েছে যে, ধৃত দেবেন্দ্রর পুলিশের কাছে স্বীকার করে নিয়েছে, সে জঙ্গিদের থেকে ১২ লক্ষ টাকা নিয়েছিল আশ্রয় দেওয়ার জন্য। এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে, উনিশের ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামার জঙ্গি হামলায় দেবেন্দ্রর কোনও যোগ ছিল কিনা। অধীর চৌধুরিও আরও একটি টুইট করে সেই প্রশ্ন তুলেছেন৷ তিনি পুলওয়ামার সিআরপিএফ কনভয়ে হওয়া জঙ্গি হামলার পুনরায় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “এত উচ্চপদস্থ একজন পুলিশ আধিকারিকের জঙ্গি যোগ নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাই পুলওয়ামাতে জঙ্গি হামলার তদন্ত নতুন করে করা উচিত।”

অধীর চৌধুরী বলেন, “দেবেন্দ্র সিংয়ের গ্রেফতারির পর একটি নতুন প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। তাহল পুলওয়ামাতে জঙ্গি হামলার সময় সিকিউরিটি ইনচার্জ কে ছিল? সংসদে হামলার সঙ্গেও কী যোগ ছিল ধৃত ওই ডিএসপির ? এই বিষয়ে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কী ভাবছেন সেটাও আমরা জানতে চাই।”

উল্লেখ্য, গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে জম্মু থেকে ৭৮টি গাড়িতে আড়াই হাজারেরও বেশি সেনা শ্রীনগর যাচ্ছিলেন। বিকেল তখন সওয়া ৩টে। অবন্তীপোরার লাট্টুমোরের কাছে সেই কনভয়ে গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালায় জইশ জঙ্গিরা। এই হামলাকে ঘিরে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন উঠে এসেছে। সেই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে নিরাপত্তার গাফিলতিরও। গোয়েন্দাদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যপাল সত্য পাল মালিকও। তিনি বলেন, “গোয়েন্দা ব্যর্থতাকে কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি হাইওয়েতে ঢুকে পড়ল, আর সেটা চিহ্নিত করা, তল্লাশি চালানো গেল না! আমাদের এটা মেনে নিতে হবে গাফিলতি আমাদেরও ছিল।”সেনার উপর বড়সড় আত্মঘাতী হামলার ছক কষছে জঙ্গিরা, গত ৮ ফেব্রুয়ারি গোয়েন্দারা এমনই একটি রিপোর্ট দিয়ে বাহিনীকে সতর্ক করেছিল। কিন্তু তার পরেও কেন হামলা আটকানো গেল না তা নিয়ে বহু কাটাছেঁড়া হয়।

যে রাস্তা দিয়ে সেনা কনভয় যাচ্ছিল, সেই রাস্তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে সিআরপি, পুলিশ এবং সেনা। শুধু তাই নয়, ৫০ মিটার অন্তর চেকপোস্ট রয়েছে গোটা রাস্তায়। প্রশ্ন উঠছে, এত নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কেন হামলা আটকানো গেল না? গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও বাহিনী খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি বলে ইতিমধ্যেই অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। প্রশ্ন উঠছে, তা হলে কি সত্যিই নিরাপত্তার ভিতরেই কোনও বড় ফাঁক ছিল? গোয়েন্দারা সেই উত্তরের খোঁজ চালাচ্ছেন। ফরেন্সিক দল তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্তে নেমেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)।

তদন্তে নেমে গোয়েন্দাদের হাতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সূত্রের খবর, গোপনে যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি ইন্টারনেটের মাধ্যমেও যোগাযোগ রাখছিল জঙ্গিরা। কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল জঙ্গিরা? কনভয় কোন পথে কখন যাচ্ছে সেই খবরই বা দিল কে বা কারা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ গোয়েন্দাদের।

মঙ্গলবার আরও একটি টুইটে বিজেপিকে নিশানা করেছেন বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী৷ সেখানে তিনি লিখলেন, “দেবেন্দ্র যদি সিং না হয়ে খান হত! তাহলে আরএসএস মুসলিমদের বিরোধিতায় নেমে পড়ত। কিন্তু আমি মনে করি সন্ত্রাসের কোনও ধর্ম হয় না।”