মালদহ: তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফের ধর্মীয় তোষণের রাজনীতির অভিযোগ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। বিরোধী সংযুক্ত মোর্চা ও বিজেপির তরফে বারবার একই অভিযোগ করা হচ্ছে।

মালদহের চাঁচলের সংযুক্ত মোর্চার কংগ্রেস প্রার্থী আসিফ মাহবুবের সমর্থনে প্রচারে অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবর মাছের তেলে মাছ ভেজেছেন গঙ্গা জলে গঙ্গা পুজো করেছেন। মুসলমানদের খুশি করার জন্য ইমাম ভাতা, মোয়াজ্জেন ভাতা দিয়েছেন আবার যখন লোকসভা ভোটের ফল খারাপ হয়েছে তখন পুরোহিত ভাতা দিয়ে হিন্দুদের সন্তুষ্ট করতে চাইছেন।

শুক্রবার চাঁচলে অধীর রঞ্জন চৌধুরী ছয়টি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় বিরাট রোড শো করেন। এদিন কোলি গ্রাম, স্বরুপগঞ্জ, ভেবা এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় তাঁর রোড শো দেখতে ভিড় ছিল।সাথে ছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী আসিফ মেহেবুব।

নির্বাচনী প্রচারে এসে অধীর চৌধুরী বলেন,সংখ‍্যালঘুদের তালাক দিয়ে হিন্দুদের সাথে ঘর করছে মমতা। সংখ‍্যালঘুদের ইমাম ভাতা ওয়াকফ বোর্ড থেকে দেওয়া হচ্ছে আর মুখ‍্যমন্ত্রী মাছের তেলে মাছ ভাজছে। সংখ‍্যালঘুদের তালাক দিয়ে দিয়েছে আর এখন হিন্দুদের সাথে ঘর করছে মমতা।

অধীর চৌধুরী বলেন, বহুদিন আগেই থেকে বাম বা কংগ্রেস যা বলেছিল এখনো তাই বলছে ভারতবর্ষ হবে গণতান্ত্রিক ভারতবর্ষ হবে ধর্মনিরপেক্ষ ভারতবর্ষ হবে সমান অধিকারের দেশ। সেখান থেকে আমরা সরে যাইনি। রাজনীতি আগেও ছিল এখনও আছে ভোট আগেও ছিল এখনও আসে। হঠাৎ করে ইমাম ভাতা মোয়াজ্জেম ভাতা দিলাম বলে ভোট চাওয়ার কী মানে হল। ইমাম ভাতা মোয়াজ্জেম ভাতা কোন সরকারের নয়। মমতা ব্যনার্জী মুসলমানদের কাছে মাসিহা হওয়ার চেষ্টা করলেন। নামাজের কাতারে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন আল্লা হু আকবার বলে দিচ্ছেন। হিজাব পরে নিচ্ছেন দোয়া পাঠ করছেন কত কি নাটক করছেন। শেষে বললেন আমি মোয়াজ্জেম ইমাম ভাতা দেবো। কোন মুসলমাল চায়নি এই ভাতা।

অধীরবাবুর আরও অভিযোগ, একটা সময়ে ওয়াকাফ স্টেটের কয়েকশো কোটি টাকা ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমলে উপার্জন কমতে কমতে হাজারে নামিয়ে দিয়েছেন। আমি যদি মিথ্যা বলি তাহলে কংগ্রেসকে একটিও ভোট দেবেন না। আজ মুখ্যামন্ত্রী যে বিধানসভায় বসে প্রতিদিন মিথ্যা কথা বলছেন সেই বিধানসভাটিও ওরাকাফ বোরডের সম্পত্তি। তাই এই বাংলায় যা ছিল না তা এখন হচ্ছে। কোনও মুসলমান বলেনি মহরমের তাজিয়া বের হবে দুর্গা বিসর্জন হবেনা। এই খাতিরের রাজনীতি মুখ্যমন্ত্রী আপনি করেছেন। আপনি মুসলমানের ভোট ক্যাচার হয়েছেন। আপনি বাংলার মুসলমানদের জন্য কিছু করেন নি শুধু ভোট করিয়েছেন। গতবারের থেকে এবার মুসলমান প্রার্থী দেওয়া ১৯শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন। চাঁচল বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হয়েছে দিপঙ্কর রাম,তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছে নীহার রঞ্জন ঘোষ।

অন্যদিকে মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরের মহেন্দ্রপুর গ্রামে নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছেন এই বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী মতিউর রহমান। তিনি বলেন তৃনমুল বিভিন্ন জায়গায় সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ও সরকারি সুযোগ থেকে বিজেপি করলে তাদের নাম কেটে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিচ্ছে। মানুষ সংঘটিত আছে মানুষ বিজেপির পক্ষেই আছে।আমি গ্রামে গ্রামে ঘুরছি সেখানে গ্রামবাসীরা অভিযোগ করছেন কংগ্রেস ও তৃণমূল মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৬সালে ভোট নিয়েছেন। ভোট শেষ হয়ে যাওয়ার পর উন্নয়ন তো দুরের কথা কংগ্রেস বিধায়ক মোস্তাক আলম একবারের জন্য এলাকায় আসেনি। ফলে এলাকায় পথবাতি থেকে পানীয় জলের সমস্যা নিত্য সঙ্গী হয়েছে গ্রামের মানুষের। এবার মোদিজী আমাদের সঠিক প্রার্থী দিয়েছে। সে এলাকার উন্নয়ন করবে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.