স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: অধীর চৌধুরীকে লোকসভা ভোটে জিতে আসার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী৷ভরা জনসভায় দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সৈনিক একাধিকবার বলেছিলেন, ১৯-এর ভোটে অধীর জিতলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন৷এবার শুভেন্দুর কাছে তাঁর প্রতিশ্রুতি রাখার দাবি জানালেন অধীর অনুগামীরা৷

মুর্শিদাবাদের মিথ অধীর চৌধুরী৷ সেই মিথ ভাঙতে রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অ্যাসাইমেন্ট দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মুর্শিদাবাদের পর্যবেক্ষক হওয়ার পরই অধীর গড় তছনছ করার পণ করেছিলেন তৃণমূলের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম কাণ্ডারী৷ এক এক করে পুরসভা দখল এবং কংগ্রেস বিধায়কদের দলে টেনেছিলেন তিনি৷ সর্বশেষ তাঁর লক্ষ্য ছিল লোকসভায় মুর্শিদাবাদের তিনটি আসন দখল করে অধীর চৌধুরীর কফিনে শেষ পেরেক পোঁতা৷ শুভেন্দু এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন দলনেত্রীর কাছে৷

শুভেন্দুর অধীর গড় জয়ের লক্ষ্য অবশ্য পুরোপুরি ব্যর্থ হয়নি৷ মুর্শিদাবাদ ও জঙ্গিপুর, দুটি লোকসভা কেন্দ্রেই এবার তৃণমূল জিতেছে৷ কিন্তু তৃণমূলের আসল টার্গেট অধীরই তাদের হাত ফস্কে গিয়েছেন৷বলা চলে গোটা রাজ্যে যখন কংগ্রেসের ভরাডুবি হচ্ছে তখন একা কুম্ভ হয়ে বহরমপুর ধরে রেখেছেন তিনি৷ ভোটের ব্যবধান কমলেও শেষ পর্যন্ত জিতেছেন এবং মমতা-শুভেন্দুর আত্মবিশ্বাসে জোড় ধাক্কা দিয়েছেন৷

এবার ভোটের ফলাফল দেখে প্রদেশ কংগ্রেসের মন খারাপ হলেও অধীর গড়ের কংগ্রেসীরা উজ্জীবিত৷ সেই উচ্ছ্বাস থেকেই শুভেন্দু অধিকারীকে চরম কটাক্ষ করছেন তাঁরা৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেন্দু অধিকারীর সেই বক্তব্য তুলে ধরে প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবি জানাচ্ছেন অধীর ঘনিষ্টরা৷ তাঁরা বলছেন, “অধীর দাকে হারাতে এখানে কোনও চেষ্টারই ক্রুটি রাখেনি তৃণমূল৷ কিন্তু অধীর চৌধুরীর পাশে সাধারণ মানুষ রয়েছেন৷ তাঁকে হারানো অত সহজ নয়৷”

মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসের এক নেতা বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী তো বলেছিলেন রাজনীতি ছেড়ে দেবেন৷ তাঁর উচিত সেই কথা রাখা৷ নাকি সেটাও একটা ভাঁওতা৷তৃণমূলের নেতারা এমন বড় বড় কথা বলেন কেন, যেগুলো তাঁরা কাজে করতে পারবেন না৷”