স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: শিব ঠাকুরের আপন দেশে আইন কানুন সর্বনেশে৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার মদের ব্যবসার অবাধ ছাড়পত্রের ঘোষণার পর এমন’ই মনে করছে কংগ্রেস৷ প্রতিবাদ জানিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর দ্বারস্থ হবেন কংগ্রেসের বহরমপুরের সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী৷

আয় বাড়াতে প্রায় এক হাজারেরও বেশি মদের দোকানে লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।এমনকি গোটা রাজ্যে মদের পাইকারি ব্যবসার রাশও এবার নিজেদের হাতে নিতে চলেছে তারা! সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী , ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট বেভারেজেস কর্পোরেশন লিমিটেড ’-ই হবে অদূর ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গে একমাত্র পাইকারি সংস্থা, যারা দেশি ও বিলাতি মদের উৎপাদনের পুরোটাই প্রস্ত্ততকারক সংস্থাগুলির কাছ থেকে রাজ্যে বিক্রির জন্য কিনে নেবে৷ এমনকি, বিদেশি মদের আমদানির সম্পূর্ণ অধিকারও ন্যস্ত থাকবে তাদের হাতে৷

রাজ্যের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজের একাংশের অসন্তোষ রয়েইছে৷ সরব শতাব্দী প্রাচীন দল কংগ্রেস৷মদের ব্যবসার অবাধ ছাড়পত্রের প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই প্রদেশ কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেল রাজ্যজুড়ে আন্দোলনে নেমেছে৷ এবার সরাসরি রাজ্যপালকে গিয়ে এব্যাপারে নালিশ জানাবে কংগ্রেস৷ অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রদেশ কংগ্রেসের এক প্রতিনিধি দল ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যপালের কাছে একটি স্মারকলিপি দেবে৷ কংগ্রেস মনে করছে, ফাঁকা কোষাগার ভরাতে রাজ্যের অবাধ মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্তে সমাজে ব্যাভিচার বাড়বে৷

সামনেই লোকসভা ভোট৷ প্রদেশ নেতৃত্বের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলায় দলীয় সংগঠন মজবুত করতে নির্দেশ দিয়েছেন খোদ কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী৷ তাই ভোট ময়দানে ‘মদ’কে হাতিয়ার করেই ফায়দা তুলতে মরিয়া হাত শিবির৷