স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আরএসএস-এর সুরেই এরাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি জানালেন বহরমপুরের সাংসদ তথা লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী৷ তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করা সেটাই যুক্তিযুক্ত মনে হলে অবশ্যই রাষ্ট্রপতি শাসন আরোপ করা উচিত। তবে আমার প্রশ্ন, বিজেপি নেতারা যদি বিষয়টিকে এতটা গুরুত্ব দেন, তবে বাইরে থেকে শুধু আওয়াজ তুলছেন কেন।

মঙ্গলবার, বিজয়ী দশমীর দিন, মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের নিজের বাড়িতে সন্তানসম্ভবা স্ত্রী ও ছেলে- সহ নৃশংসভাবে খুন হয়ে যান এক শিক্ষক। আততায়ীদের গ্রেফতার করা তো দূর, হত্য়াকাণ্ডের কারণ বা মোটিভ সম্পর্কেই নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্তকারীরা। বিজেপির দাবি, জিয়াগঞ্জের নিহত শিক্ষক নাকি আরএসএস-এর এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নে রাজ্য় সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন প্রাক্তন এই বিজেপি নেতা। রাজ্য়পালের বিরুদ্ধে পাল্টা তোপ দেগেছেন রাজ্যের মন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সংবিধানিক প্রধানকে সংযত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

এই ঘটনার পরই আরএসএসের সিনিয়র নেতা এবং আন্তর্জাতিক কার্যনির্বাহী সভাপতি অলোক কুমার বলেন, আমি অবাক হই যে, পশ্চিমবঙ্গে শাসনভার ভারতীয় সংবিধান অনুসারে চলতে পারে কি না। এই বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারকে বিবেচনা করার সময় এসেছে। অবিলম্বে বাংলায় রাষ্ট্রপতির শাসন আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করুক কেন্দ্র। শুক্রবার মেদিনীপুরে দলের সভা শেষে বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু বলেন, ‘জিয়াগঞ্জে ওই শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের লোকেদে খুন করেছেন বাংলাদেশের দুষ্কৃতীরা। আর তাদের মদত দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতারা।’ সায়ন্তন বসুর সাফ কথা, ‘এ রাজ্য়ে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবিতে রাষ্ট্রপতি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ হবে বঙ্গ বিজেপি ৷

তবে অধীর চৌধুরীর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকের পর সারদা-তদন্তে থমকে গিয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তবে কি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে কোনও চুক্তি হয়েছে? আর এই রাষ্ট্রপতি শাসন প্রসঙ্গেও একথা খাটে যে, বিজেপি নেতারা যতই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুক আদতে কিছুই হবে না মমতা সরকারের বিরুদ্ধে।