স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: হায়দরাবাদ গণধর্ষণ ও খুন কাণ্ডে অভিযুক্তদের এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা অধীর চৌধুরী৷ তাঁর মতে, এনকাউনটার কোন সমস্যার সমাধান নয়৷ ধর্ষণ আটকানোর জন্য কড়া আইনের তৈরির প্রয়োজন রয়েছে৷

অধীর চৌধুরী বলেন, “এনকাউন্টার কেন কি কারনে জানি না। দেশের বিচার ব্যবস্থা রয়েছে আইন রয়েছে। সেই আইনের উপর সকলের আস্থা রাখা উচিত। এই ধরনের ঘটনা কাম্য নয়।সেই জায়গা থেকে এমন করা আইনের প্রয়োজন যেখানে এই ধরনের ঘটনায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়ায় কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করা যায়। ” কিন্তু এনকাউনটার কোন সমস্যার সমাধান নয় বলেই মনে করেন লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা।

বহরমপুরের সাংসদের মতে, ঘটনা ঘটার পর সবসময়ই বিতর্ক দেখা যায়। দেশ উত্তাল হয়। বারবার কড়া শাস্তির সওয়াল উঠে। কিন্তু তারপরেও কেন এই ধরনের ঘটনা ঘটছে।ঘটনা ঘটার পর সড়ক হলে হবে না কিভাবে এই ধরনের ঘটনা বন্ধ করা সম্ভব হয়, আটকানো সম্ভব হয় সেই দিকেই নজর দিতে হবে সরকারকে। যার জন্য কড়া আইন তৈরির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করেন বহরমপুরের​ সাংসদ।

গত ২৭ নভেম্বর হায়দরাবাদের সামশাবাদ এলাকায় তরুণী চিকিৎসককে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়। শুক্রবার ভোরে অভিযুক্ত চার জন পালানোর চেষ্টা করলে এনকাউন্টারে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশের দাবি, সে সময় তাঁদের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্তেরা। আত্মরক্ষার্থে তাদের গুলি করে মারা হয়।

ভোররাতের তেলঙ্গানা এনকাউন্টারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশ জুড়ে শুরু হয়ে যায় প্রশংসার বন্যা। এ দিন পুলিশকে লক্ষ্য করে পুষ্পবৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু তারপরও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো অনেকরই প্রশ্ন, গোটা ঘটনায় কি বিচারব্যবস্থার অস্তিত্বকেই চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে না?

উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এনকাউন্টারের কড়া নিন্দা করেছেন৷ শুক্রবার মেয়ো রোডে তিনি বলেন, ‘‘এটা আইন নয়, যে আইনকে আমি নিজের হাতে তুলে নিলাম। আইন এটাই, পুলিশ তার কাজ করবে, আদালতে পেশ করবে। বিচারক বিচারকের কাজ করবেন।’’