নয়াদিল্লি: গত দু’দিন ধরে লোকসভায় শপথ নিয়েছেন নবনির্বাচিত সাংসদেরা। এবার শপথ এই অভিনব সংযোজন ছিল ধর্মীয় স্লোগান। শপথ বাক্য পাঠ করে কেউ বলেছেন, ‘জয় শ্রী রাম’, কেউ বলেছেন, ‘আল্লাহু আকবর, ‘কেউ বলেছেন, ‘রাধে রাধে’, আবার কেউ বলেছেন ‘জয় মা কালী’। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সেইসব ভিডিও গণতন্ত্রে জাতপাতের প্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তাই সেই ইস্যুকে টেনেই লোকসভায় দাঁড়িয়ে সম্প্রীতির বার্তা দিলেন বাংলার কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী।

বাংলায় কংগ্রেস প্রায় তলানিতে এসে ঠেকলেও আজও প্রাসঙ্গিকতা হারাননি অধীর। একাই গড় সামলে চলেছেন। বিজেপি-তৃণমূল লড়াইয়ের মাঝে তাবড় নেতাদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন এবারও। তাই তাঁর লড়াইকে সম্মান দিয়ে লোকসভায় তাঁকে দলীয় নেতা করেছে কংগ্রেস হাই কমান্ড। আর সংসদের দলীয় নেতা হওয়ার পর বুধবারই ছিল অধীরের প্রথম দিন।

লোকসভায় কংগ্রেসের পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে তাঁর প্রথম ভাষণেই কার্যত মন জিতে নিয়েছেন বাংলার রবিনহুড। নবনির্বাচিত স্পিকার ওম বিড়লাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘আপনি শুধু একজন সমাজকর্মীই নন, একজন কৃষিবিদও বটে। তাই আপনি জানেন, দেশ জুড়ে কীভাবে কৃষকরা আত্মহত্যা করছে।’ এভাবেই একাধিক ইস্যু নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

তবে চমক ছিল তাঁর বক্তব্যের শেষের অংশে। গত কয়েকদিন ধরে ধর্মীয় স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা লোকসভা নিয়ে এদিন সরব হন অধীর। বলেন, এটা লোকসভার মর্যাদার প্রশ্ন। হিন্দি কবিতার পংক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এমন সমাজ গঠিত হোক, যেখানে মসজিদে রামকে দেখতে পাবে মোল্লা, আর মন্দিরে রহমানকে দেখতে পাবে পুরোহিত। গোটা দেশটাই সেদিন বদলে যাবে, যেদিন মানুষের মধ্যে মানুষ শুধু মানুষকেই দেখতে পাবে।’

তাঁর এই বক্তব্যে ওঠে হাততালির ঝড়। নতুন স্পিকারের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছাবার্তাও দেন বহরমপুরের সাংসদ। বলেন, ‘খুদাসে কেয়া মাঙ্গু, তেরে বাস্তে, সদা খুশিসে ভরে হো তেরে রাস্তে। হসি তেরে চ্যাহেরে পে রহে ইস তরাহ। খুশবু ফুলও কে সাথ রহতি হ্যায় জিস তরাহ।’