নয়াদিল্লি: একদিকে ভারত সফরে এসেছেন ট্রাম্প দম্পতি। আর অন্যদিকে একের পর এক মৃত্যুর দেখছে রাজধানী দিল্লি। সোমবার বিকেল থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সোমবার রাত পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এক পুলিশ কনস্টেবলসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। এদের মধ্যে চারজনই সাধারন নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। যত সময় গড়াচ্ছে তত পরিস্থিতি ঘোরাল হচ্ছে। ভয়ঙ্কর এই ঘটনায় আতঙ্কিত দিল্লির মানুষ। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা। পুরো ঘটনার জন্যে কেন্দ্রীয় সরকারকেই দায়ী করেছেন বাংলার কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী।

এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে অধীরবাবু জানিয়েছেন, দিল্লিতে যা চলছে তা সমাধানের জন্য সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। দিল্লির দেখভাল করার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর”। অন্যদিকে দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। “অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু গোষ্ঠী ভারতকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করতে চাইছে। আমার অনুরোধ দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখুন”, ঘটনার পরেই মন্তব্যে কংগ্রেস সভানেত্রীর।

এদিনের ঘটনার স্থানীয় মানুষজন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে এ দিনের সংঘর্ষে। এদিন দিল্লির পরিস্থিতির যেসব ছবি প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে তাতে রাজধানীকে যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়া আর কিছুই মনে হচ্ছে না।

ধ্বংস হয়েছে একের পর এক গাড়ি বাড়ি দোকানপাট সব কিছুই। এমনকি পেট্রোল পাম্পে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিন ভজনপুর আর একটি পেট্রোল পাম্পে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে এবং বিরোধীদের মধ্যে এদিনের সংঘর্ষ।

নর্থ ইস্ট দিল্লি রাস্তা জুড়ে পড়ে আছে কাজ পাথরের টুকরো। চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পুড়ে যাওয়া গাড়ি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পুলিশ প্রথমে কাঁদানে গ্যাসের শেল পাঠালেও পরে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়। ইটের আঘাতে মৃত্যু হয়েছে রতনলাল নামে এক পুলিশের হেড কনস্টেবলের।

বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে গুরুতর চোট পান রতনলাল। তখনই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে এক বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বন্দুক নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। একদিকে ভারতে সফরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর এদিনই আগুন জ্বলল দিল্লিতে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ