স্টাফ রিপোর্টার, বারাসত: কাশ্মীর ইস্যুতে ফের কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করলেন কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরি । তিনি বললেন, “জম্মু-কাশ্মীরের ওই (পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর) অংশকে ভারতবর্ষের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমরাই প্রথম দাবি করেছিলাম । ১৯৯৪ সালে কংগ্রেস সরকারই প্রথম লোকসভা ও রাজ্যসভায় এই সংক্রান্ত প্রস্তাব পাশ করেছিল ।”

বুধবার বারাসত বিশেষ আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে আসেন তিনি ৷ পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন৷ ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর জম্মু-কাশ্মীরের সমস্যার আদৌও সমাধান হয়েছে কিনা সেই প্রশ্নও তুলেছেন অধীর ৷ বহরমপুরের বলেন, “৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর কাশ্মীরের অবস্থা খতিয়ে দেখতে সেখানে যান রাহুল গান্ধি৷ কিন্তু তাঁকে কাশ্মীরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি৷ দেশের লোকই সেখানে যেতে পারছেন না৷ ২৫টা হোটেলের বুকিং বাতিল হয়েছে৷ বাঙালিরা প্রতিবছর দুর্গাপুজোর সময় কাশ্মীরে যান৷ এবার যেতে পারছেন না৷ ”

উল্লেখ্য, এই ৩৭০ ধারা প্রয়োগ নিয়ে একটি মন্তব্য করে কিছুদিন আগেই বিতর্কে জড়িয়েছিলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী৷ সংসদে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে কেন্দ্রের কী অবস্থান? জানতে চেয়েছিলেন, কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের যে পর্যবেক্ষণ রয়েছে, সেখানে দিল্লির কী ভূমিকা হবে?

অধীর চৌধুরী সংসদে বলেছিলেন, “সরকার স্পষ্ট করুক কাশ্মীর ইস্যু অভ্যন্তরীণ না দ্বিপাক্ষিক বিষয়।” সিমলা চুক্তি, লাহোর ডিক্লেরেশনের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জবাব চান তিনি। তাঁর এই বক্তব্য অস্বস্তিতে ফেলে কংগ্রেসের প্রাক্তন চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীকে। তিনি খানিকটা বিরক্ত প্রকাশ করেন। এরপরই চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে দেন বিজেপি সাংসদরা।

বাংলায় এনআরসির আগে বিজেপি শাসিত রাজ্য এন আর সি কেন করা হচ্ছে না এদিন সে প্রশ্নও তুললেন অধীর চৌধুরী।

দেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয় প্রসঙ্গে অধীর বলেন, “অর্থনীতির বিপর্যয়ের জন্য কেবল দেশের অর্থমন্ত্রী একা দায়ী নন। গোটা বিজেপি সরকারটাই ধামাকায় বিশ্বাসী। সাধারণ মানুষের অসুবিধার কথা শোনার সময় এদের নেই। মোদি সরকার টিভিতে বিজ্ঞাপন দিতেই ব্যস্ত। দেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয় নোটবন্দির সময় থেকে শুরু হয়েছে। সেদিন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনোমোহন সিং যা বলেছিলেন, আজ তা সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।”

কলকাতার মেট্রো প্রকল্প নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে একহাত নেন অধীর। তিনি বলেন, “মেট্রো প্রকল্পের পথ পরিবর্তন করাতেই কলকাতায় বিপদ দেখা দিয়েছে। মেট্রোরেল পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি ৷”