স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: লঘু পাপে গুরুদণ্ড পেয়েছেন তাপস পাল৷ বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতার মৃত্যুর পর এমনই মন্তব্য করলেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। তিনি জানান, একসময় তিনি তাপস পালকে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ারও পরামর্শও দিয়েছিলেন৷

২০০৯ সালে নদিয়ার কৃষ্ণনগর থেকে তৃণমূলের টিকিটে সাংসদ নির্বাচিত হন তাপস পাল। পাঁচ বছর পর ২০১৪ -য় ফের জয় পান তিনি। কিন্তু ভোটে জেতার পরেই বিতর্কে জড়ান সাংসদ। চৌমুহা গ্রামের একটি পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে চরম অশালীন মন্তব্য করে বসেন তাপস পাল। ‘ঘরে ছেলে ঢুকিয়ে দেব’, এই বিতর্কিত মন্তব্যের জেরেই তুমুল সমালোচিত ও নিন্দিত হয়েছিলেন তাপস পাল। গোটা দেশের সংবাদমাধ্যমে তিনি সমালোচিত হয়। যার জেরে দলের মধ্যেই চাপে পড়ে যান অভিনেতা- সাংসদ। পরে ক্ষমাও চান তিনি। পরবর্তী সময়ে সেই মন্তব্যের জন্য রীতিমতো অনুতপ্ত ও লজ্জিত ছিলেন তাপস পাল।

প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদের প্রয়াণে কংগ্রেস সাংসদ বললেন, ‘‘বক্তৃতায় খারাপ ভাষা বলেছিলেন। আমি একবার বলেছিলাম, তাপস দা, মুখের ভাষা তীর ছোড়ার মতো, তীর ছুড়ে দিলে আর ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। উনি লজ্জিত বোধ করতেন, অনুতাপ বোধ করতেন, দেখে খারাপ লাগত’’।

এদিন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ বলেন, ‘‘সংসদে তাঁর সঙ্গে কথা বলতাম, মজা করতাম। যখন উনি গ্রেফতার হলেন, তখন খারাপ লেগেছিল, মনে হয়েছিল, লঘু পাপে গুরুদণ্ড পাচ্ছেন তাপস পাল। বক্তৃতায় খারাপ ভাষা বলেছিলেন। আমি একদিন বলেছিলাম, জানেন তো তাপস দা, মুখের ভাষা তীর ছোড়ার মতো, তীর ছুড়ে দিলে ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। উনি লজ্জিত, অনুতাপ বোধ করতেন। দেখে খারাপ লাগত। শেষের দিকে, তাপসদার সঙ্গে যখন কথা বলতাম, তখন ওঁকে হতাশাগ্রস্ত লাগত। তিনি অবহেলার শিকার হয়েছিলেন। উনি বলতেন, কেউ তো আমায় পাত্তা দেয় না আর। আমার আর কোনও দাম নেই’’।

এদিন কংগ্রেস সাংসদ বলেন, ‘‘উনি খুব ভেঙে পড়েছিলেন। আমি বলেছিলাম, ভেঙে পড়বেন না। রাজনীতি করতে ভাল না লাগলে ছেড়ে দিন। অভিনয় জীবনে ফিরে যান। সাহেবের স্পিরিট নিয়ে ফিরে যান। ফোনে কথা হত তাপসদার সঙ্গে। তারপর তাপসবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। খুব খারাপ লাগছে আজ’’।