কলকাতা: এনআরসি ইস্যুতে সরব হল কংগ্রেস৷ ভোটের আগে বাজার গরম করতে চাইছে বিজেপি৷ তাই এই নাগরিকপঞ্জী নিয়ে নাজেহাল করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে৷ শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যসরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দেগে চলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি৷

আরও পড়ুন: স্বাধীনতা দিবসে শিয়ালদহ, হাওড়া স্টেশন চমকে দেবে আপনাকে

মেয়ো রোডে এদিন সভা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ সেই সভা নিয়ে বিরোধী শিবিরের প্রতিক্রিয়া যে খুব একটা মধুর হবে না সেটাই স্বাভাবিক৷ অধীরকে এদিন মূলত এনআরসি নিয়েই তোপ দাগতে শোনা যায়৷

তিনি বলেন, অমিত শাহ বলে দিলেন ৪০ লক্ষ অনুপ্রবেশকারী৷ সুপ্রিম কোর্ট বলছে এখনও একজনও অনুপ্রবেশকারী নেই৷ এটা খসড়া৷ এখনও চূড়ান্ত তালিকা হয়নি৷ আর তা যতক্ষণ না হচ্ছে প্রত্যেকে ভারতের নাগরিক৷ শুধু সুপ্রিম কোর্ট কেন, নির্বাচন কমিশনও তো বলেছে প্রত্যেকের ভোটাধিকার রয়েছে৷ তার মানে এটা পরিষ্কার ৪০ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে তা নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে৷

আরও পড়ুন: মমতাকে হারানোর জন্যে আমাদের সঙ্গে এসেছেন মুকুলজি: অমিত শাহ

এরপরই অধীররে তোপ, তা এই লক্ষ লক্ষ মানুষকে যে অন্য দেশে পাঠানোর কথা অমিত শাহ বা বিজেপি ভেবেছে তা তাঁদের কোথায় পাঠাবেন সেটা নিয়ে কি কিছু ভেবেছেন! যদি বাংলাদেশে পাঠানোর কথা ভেবে থাকে, তা হলে সীমানা পার করে বাংলাদেশে এদেশের এতদিনের নাগরিকদের পাঠিয়ে দেবেন এমন তো কোনও চুক্তি ভারত সরকার করেনি৷

অধীরের কথায়, ‘‘যদি অমিত শাহ বা বিজেপি অনুপ্রবেশকারী পাঠানোর ক্ষেত্রে আন্তরিক হত, সত্যিই সচেষ্ট হত তবে এনআরসির খসড়া বানানোর আগে উচিৎ ছিল বাংলাদেশের সঙ্গে প্রত্যার্পণ চুক্তি করে নেওয়া৷ তবেই তো পাঠাতে পারবেন এতগুলো মানুষকে৷ না হলে বাংলাদেশ কি ৪০ লক্ষ মানুষকে নেবে!’’

আরও পড়ুন: মোদীর মন্ত্রিসভার মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ! কি বলছেন তিনি?

তিনি বলেন, এসব ‘বাতেলা’ ছাড়া আর কিছুই নয়৷ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির সাফ কথা, ‘‘বাতেলা মেরে লাভ নেই৷ এসব ভোটের আগে বাজার গরম হচ্ছে৷ বাংলার মানুষকে বলব দয়া করে এই সঙ্কীর্ণ রাজনীতিতে আপনারা প্রভাবিত হবেন না৷ অসমে বাঙালি, বিহারি, ওড়িয়া, অহমিয়া এমন বহু মানুষ আছেন যাঁরা দশকের পর দশক অসমে বসবাস করছেন৷ তাঁদের মধ্যে যেন কোনও বিতর্ক তৈরি না হয়৷’’

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিতি ছিলেন কংগ্রেসের মুখপাত্র পবন খেরা৷ তিনিও সুর চড়ান বিজেপির বিরুদ্ধে৷ তিনি বলেন অমিত শাহ বিভিন্ন জায়গায় বিভাজনের রাজনীতি করেন৷ সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে হাতিয়ার করে এগোতে চান৷ বাংলাতেও তাই করছেন৷ অমিত শাহ তো বহু দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেন৷ কিন্তু জয় শাহ নামে এক ব্যক্তি রয়েছেন৷ যিনি অমিত শাহর সুপুত্র৷ যাঁর কোম্পানি নিয়ে বহু অভিযোগও রয়েছে৷ তা নিয়ে অমিত শাহ কেন কিছু বলেন না৷

আরও পড়ুন: যোগীর রাজ্য়ে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ উড়ালপুল