ফাইল ছবি৷

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের পক্ষে নন বহরমপুরের সাংসদ তথা প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী৷তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে সব সমস্যার সমাধান হবে না৷

লোকসভা ভোটের পরে রাজ্যে যে ভাবে হিংসা ছড়িয়েছে, তাতে সংবিধানের ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। সোমবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যপাল বলেছিলেন, ‘‘৩৫৬ ধারা জারি আমার এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না।’’ কিন্তু পরে একটি বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘৩৫৬ ধারা জারি হতেও পারে। যখন দাবি উঠবে, তখন কেন্দ্র তা ভেবে দেখবে।’’রাজ্যে শান্তি ফেরাতে প্রয়োজনে সর্বদল বৈঠকের পক্ষেও সওয়াল করেছেন রাজ্যপাল।

কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেন, একমাত্র পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া সারা দেশের কোথাও ভোটের পর খুনোখুনির খবর নেই ৷ এতে কি বাংলার সম্মান বাড়ছে? নির্বাচনে যেরকম রাজনৈতিক মেরুকরণ হয়েছে সেরকম আগামী দিনেও এরাজ্যের রাজনীতিতে মেরুকরণ দেখা যাবে৷ তাই বাংলার মানুষের আরও সতর্ক হওয়া দরকার৷ রাষ্ট্রপতি শাসনের হয়তো দাবি উঠছে৷ কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে সব সমস্যার সমাধান হবে না৷ বরং সর্বস্তরের মানুষকে একজোট হতে হবে৷

রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তাঁর দাবি, উভয় দলের নেতৃত্ব যেন বসে এই খুনোখুনি রাজনীতি বন্ধ করুক৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বদলীয় বৈঠক ডাকুক৷খুনোখুনির প্রতিযোগিতা না করে শিল্প, শিক্ষা, কর্মসংস্থানের প্রতিযোগিতা করা হোক৷ রাজ্যজুড়ে সন্ত্রাসের প্রতিবাদে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব ১৪ জুন গান্ধী মূর্তির পাদদেশে গণ অবস্থানে বসতে চলেছ ৷

এদিকে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিও জানিয়েছেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ মানেই যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে হবে এমন যুক্তি অর্থহীন৷