স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বানিজ্য সম্মেলনের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুরের সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী৷ তিনি বলেন, পাঁচ বছর ধরে বানিজ্য সম্মেলন হচ্ছে অথচ বাংলার ঋনের পরিমান বাড়ছে৷ এত বিনিয়োগ হচ্ছে অথচ মানুষ চোখে দেখতে পাচ্ছেন না৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে চিটফান্ড, লটারি, মদ-এই তিনটি শিল্পেরই রমরমা হয়েছে৷

গত পাঁচ বছর ধরে রাজ্যে বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটের আয়োজন করছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷এবছর সদ্য সেই সম্মেলন শেষ হয়েছে৷ গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় অধীর চৌধুরী বলেন, কোটি কোটি টাকা খরচ করে পশ্চিমবঙ্গে গ্লোবাল বিজনেস সামিট করছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বলছেন বাংলায় বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ছে৷

কিন্তু কত বিনিয়োগ হচ্ছে সেই তথ্য তিনি দিচ্ছেন না৷ প্রথম বছরে বানিজ্য সম্মেলন শেষ হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ হতে চলেছে দু লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকা৷ দ্বিতীয় বছরে তিনি ঘোষণা করলেন বিনিয়োগ হতে চলেছে দু লক্ষ ৪৭ হাজার কোটি টাকা৷ তৃতীয়বারে তিনি ঘোষণা করলেন দু লক্ষ ৩৫ হাজার কোটি টাকা৷চতুর্থবার তিনি ঘোষণা করলেন দু লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকা৷ এবছর তিনি ঘোষণা করলেন দু লক্ষ ৮৪ হাজার কোটি বিনিয়োগ হচ্ছে৷

অধীর চৌধুরী বলেন, গত পাঁচ বছরে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিনিয়োগের পরিমাণ হিসেব করলে দেখা যাবে প্রতি বছর ১৩ থেকে ১৪ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ হওয়ার কথা৷ যদি তাই হয় তাহলে কেন উনি বলছেন যে আমার কাছে টাকা নেই৷ যেভাবে হোক টাকা জোগাড় করে কাজ করছি৷ এত বিনিয়োগ হওয়া সত্বেও বাংলার মানুষের উপর এখনও পর্যন্ত তিন লক্ষ ৮৬ হাজার কোটি টাকা ঋণের বোঝা কেন তিনি চাপিয়ে দিয়েছেন?

কংগ্রেস সাংসদ আরও বলেন, বিনিয়োগের টাকাটা কোথায় কাজে লাগানো হল সেটা কেউ জানেনা৷ বাংলার মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার অধিকার মুখ্যমন্ত্রীর নেই৷ সাধারণ মানুষের টাকা দিয়ে তিনি রাজযজ্ঞ করছেন৷ অতিথিদের আদর-আপ্যায়ন করতে নিজের পকেট থেকে তো ওনাকে টাকা দিতে হচ্ছে না, বাংলার কোষাগার থেকে টাকা যাচ্ছে৷ তবে বাংলায় তিনটে শিল্প তিনি খুব ভালো করছেন৷ এক লটারি, দুই মদ আর তিন চিটফান্ড শিল্প৷