নয়াদিল্লি: মহাত্মা গাঁধীর নেতৃত্বে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকে ‘বড় নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন বিজেপি সাংসদ অনন্তকুমার হেগড়ে। সেই ইস্যুতেই মঙ্গলবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল লোকসভা। বিতর্ক উসকে বিজেপি নেতাদের ‘রাবণের বাচ্চা’ বলে কটুক্তি করেন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরি।

এদিন, মহাত্মার অপমান নিয়ে সংসদে গোড়া থেকেই সরব হয় কংগ্রেস। জাতির পিতার সংগ্রামকে নাটক আখ্যা দেওয়ায়, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনন্তকুমার হেগড়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন অধীর চৌধুরী। বলেন, ‘‘যাঁরা গাঁধীকে অসম্মান করেন, তাঁরা রাবণের সন্তান।’’তিনি বলেন, ‘‘স্বাধীনতা আন্দোলন হয়েছিল অহিংস পথে। আর সেটা হয়েছিল মহাত্মা গাঁধীর নীতি মেনেই। গোটা বিশ্বে যিনি পূজিত, সেই গাঁধীকে এখন তাঁর নিজের দেশেই অপমানিত হতে হচ্ছে। যাঁরা এটা করছেন, তাঁরা রাবণের সন্তান। তাঁরা এক জন রামভক্তকে অপমান করছেন।’’

অধীরের মন্তব্যের পরই তুমুল প্রতিবাদ শুরু করেন বিজেপি সাংসদরা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী বলেন, ‘আমরা ভারতীয় জনতা পার্টির সদস্যরা প্রকৃত গান্ধীর অনুগামী। ওরা সোনিয়া ও রাহুলের মতো নকল গান্ধীর ভক্ত।’

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার জন্য মহাত্মা গান্ধী যে অনশন ও সত্যাগ্রহ আন্দোলন করেছিলেন তাও ইংরেজদের সমর্থনে মঞ্চস্থ করা হয়েছিল বলে গত শনিবার বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন অনন্তকুমার হেগড়ে। তারপরই শুরু হয় তুমুল বিতর্ক ও সমালোচনা। চাপে পড়ে হেগড়েকে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশও দেয় দল। এদিন নিজের মন্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ তো করলেনই না, বরং হেগড়ের সাফাই, তিনি মহাত্মা গান্ধীর নাম উচ্চারণ করেননি। কোনও রাজনৈতিক দলের কথাও বলেননি বলে জানিয়েছেন হেগড়ে। দলীয় সাংসদের বিতর্কিত মন্তব্যে বেজায় চাপে বিজেপি। দলীয় অসন্তোষের কথা জানানো হলেও নিজের অবস্থানে অনড় হেগড়ে।যা নিয়ে ফের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিন হেগড়ে বলেন, ‘‘সংবাদমাধ্যমে আমার মুখে যা বসানো হয়েছে, তা একেবারেই মিথ্যা। তাই আমার মন্তব্য থেকে সরে আসতে রাজি নই। আমি গাঁধী বা কোনও দলের কথা বলিনি। আমি যদি মহাত্মা গাঁধী বা জওহরলাল নেহরু অথবা কোনও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নামোল্লেখ করে থাকি, তা হলে সেটা আমাকে দেখানো হোক।’’