নয়াদিল্লি: রাজধানীতে ‘রবিনহুড’-এর ভূমিকায় কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। দিল্লিতে আটকে পড়া ১১ বাঙালিকে উদ্ধার করলেন নিজের উদ্যোগে। পরে তাঁদের কলকাতার ফেরানোর ব্যবস্থাও করেন বাংলার এই দাপুটে নেতা। বহরমপুরের সাংসদের এই কীর্তিকে কুর্নিশ জানিয়েছেন দিল্লিতে আটকে পড়া ১১ বাঙালি শ্রমিক।

বরাবরই দাপুটে মেজাজ ও স্পষ্ট বক্তা হিসেবে পরিচিত অধীর চৌধুরী। তাঁর সেই ইমেজ সংসদেও একাধিকবার ধরা পড়েছে। এবার রাজধানীতে থেকেও ত্রাতার ভূমিকায় সেই অধীর। এবার দিল্লিতে আটকে পড়া বাঙালিদের সাহায্যে এগিয়ে এলেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ। দিল্লিতে সিএএ সমর্থনকারী ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে একটানা ৩ দিন ধরে না খেতে পেয়ে কোনমতে দিন কাটাচ্ছিলেন ১১ জন বাঙালি।

উত্তরপূর্ব দিল্লির গণ্ডা এলাকায় আটকে ছিলেন ওই ১১ বাঙালি শ্রমিক। এই খবর পৌঁছোয় মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভায় কংগ্রেসের নেতা অধীর চৌধুরীর কাছে। দিল্লিতে ১১ বাঙালি সংকটে পড়েছেন জানতে পেরে তাঁদের উদ্ধারে সচেষ্ট হন অধীর।

তড়িঘড়ি তিনি যোগাযোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে। তারপরই গণ্ডা এলাকা থেকে আটকে পড়া ওই ১১ বাঙালিকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাঁদের দিল্লি থকে কলকাতার ট্রেনে ফেরার বন্দোবস্তও করে দেন অধীর চৌধুরী।

রুজি রোজগারের খোঁজে মুর্শিদাবাদ থেকে দিল্লিতে গিয়েছিলেন ওই ১১ জন। রাজধানীতে কাজ করে রোজগার আরও বাড়িয়ে রাজ্যে ফেরার স্বপ্ন ছিল তাঁদের। কিন্তু গত ৩ দিনে ভেস্তে দিয়েছে তাঁদের সব ভাবনা। রীতিমতো প্রাণ-ভয়ে একপ্রকার লুকিয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন ওই ১১ শ্রমিক।

এই ৩ দিনে দুবেলা খাবারও জোটেনি তাঁদের। বাড়ি ফিরবেন কীভাবে তা ভেবে কুল পাচ্ছিলেন না তাঁরা। এদিকে মুর্শিদাবাদের নওদায় তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও প্রবল উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছিলেন।

১১ বাঙালি শ্রমিককে তাঁদের বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করতে পেরে স্বভাবতই খুশি অধীর চৌধুরী নিজেও। পরে টুইটে তিনি লেখেন, ‘দিল্লিতে আটকে পড়া নওদার ১১ জনকে উদ্ধার করে কলকাতার ট্রেনে উঠিয়ে দিয়েছি। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বলব, দুশ্চিন্তার কারণ নেই, আপনাদের পরিজনেরা বাড়ি ফিরছেন।’